তানোরে অপারেশনে ছাগলের মৃত্যু, কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন নারী

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) :
| আপডেট: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম | প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
তানোরে অপারেশনে ছাগলের মৃত্যু, কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন নারী

রাজশাহীর তানোরে প্রাণী সম্পদ অফিসের কর্মরত ডাক্তারের বিপরীতে কর্মচারী দিয়ে অপারেশনের সময় ছাগলের বাচ্চার মৃত্যু হওয়ায় ক্ষতিপুরন চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক নারী।  বুধবার সকালের দিকে প্রাণী সম্পদ অফিসে ঘটে ছাগলের বাচ্চার মৃত্যুর ঘটনাটি। ছাগলের বাচ্চার মৃত্যুর পর অসহায় ওই মহিলাকে অনুদানের কথা বলে সান্তনা দেন বলেও নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী এবং সরকারি কোন সহোযোগিতা এলে দেয়া হবে বলে মরা ছাগলের বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন ভেটোনারী সার্জন ডা. সুমন মিয়া। মরা ছাগলের বাচ্চা কোলে নিয়ে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনের কাছে দুই সন্তান নিয়ে কান্না করছিলেন অসহায় গৃহবধূ সেলিনা বেগম। তার বাড়ি উপজেলার মোহর গ্রামে। সে নাজমুলের স্ত্রী। তিনি বলেন, সকালে ছাগলের বাচ্চা নিয়ে আসি অপারেশনের জন্য। অপারেশন করার সময় ছাগলের বাচ্চা নুয়ে পড়ে। নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন বলা হয় ছাগলের বাচ্চা মারা গেছে। আমি কারন জানতে চাইলে তারা বলে চিকিৎসা করার সময় মানুষ মারা যায়। ছাগল মারা যেতেই পারে। আপনি বাড়িতে চলে যান। সরকারি কোন সহায়তা এলে আপনাকে দেয়া হবে বলে নাম লিখে নেয়। সেলিনা বেগম আরো বলেন, আমি অত্যান্ত গরিব অসহায়। বিগত চার বছর ধরে ছাগল লালন পালন করার পর একটা বাচ্চা হয়। বাচ্চাটি খাসি করার জন্য বুধবার সকালে অফিসে নিয়ে আসি। কিন্তু এমন চিকিৎসা দিল যে সাথে সাথে ছাগলের বাচ্চা মারা গেল। অফিসে এসেও সঠিক ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। কর্মচারীদের দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি যেন এমন গটনায় আর কারো ছাগল মারা না যায়।  প্রাণী সম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, এক কর্মচারী বা বহিরাগত লোক গরু ছাগলের চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রধান কর্মকর্তা ডা: ওয়াজেদ আলী দুপুর সাড়ে ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত অফিসে ছিলেন না। অফিসে ছিলেন ভেটোনারি সার্জন ডা: সুমন মিয়া। তিনি বলেন, ছাগলের বাচ্চার দুই ধরনের অপারেশন করা হয়। অপেন ম্যাথড, ক্লোজ ম্যাথড। অপারেশনের সময় বাচ্চা মারা যেতে পারে বলেও মালিককে বলা হয় এবং লিখিত নেয়া হয়। আমি অপারেশন করিনি, অফিসের অন্য লোক করেছে।  আপনি কি তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া কি কাজ করতে পারবে। কে অপারেশন করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের পাঁচ থেকে ছয়জন লোক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তারাই করেছে। ছাগলের বাচ্চার মালিককে সব বুঝিয়ে বলা হয়েছে, সরকারি সহায়তা এলে তাকে সহযোগিতা করা হবে। আপনি অফিসে থাকার পরও তাদেরকে দিয়ে কেন অপারেশন করালেন প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, তারা তো প্রতিনিয়তই চিকিৎসা করে থাকেন। এখন একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। আবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া সব রোগীতো বাঁচে না বলে দায় সারেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে