পুঠিয়ায়

অভিনব কায়দায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
অভিনব কায়দায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় অভিনব কায়দায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা পুকুর সংস্কারের নামে পুকুর খনন করার  অভিযোগ উঠেছে। পুরাতনগুলো সরকারের পক্ষ হতে এখনো পর্যন্ত জমির শ্রেনি পরিবর্তন করা হয়নি। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে পুকুরগুলো বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আর পুকুরের খাজনা আদায় করা হচ্ছে ধানী জমি হিসাবে। এতে করে সরকারের প্রতিবছর বাণিজ্যিক পুকুরগুলো হতে মোটাঅংকের রাজস্ব আদায় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারি নিয়মনুসারে ১৪২২বাং সাল হতে ধানী জমি প্রতি শতাংশ দুই টাকা হারে খাজনা ধায্য করা হয়েছে। বাণিজ্যিক পুকুরের খাজনা ধরা হয়েছে প্রতি শতাংশ পৌর এলাকায় ৪০ টাকা আর ইউনিয়ন এলাকায় ৩০ টাকা হারে। পুকুর খননের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকটে ইতোমধ্যে একাধিক পুকুর পুনঃ সংস্কারের জন্য আবেদন দিয়ে রেখেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের আগেই কয়েকদিন ধরে পুকুর খনন শুরু হয়েছে। উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের একজন বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় রাতোয়াল-মালিপাড়া বিলে ৩০ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করা শুরু করে ছিল। বুধবার গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহাী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান অভিযানে যায়। কিন্তু তিনি যাওয়ার আগেই পুকুর খননের যন্ত্র এক্সেভেটর নিয়ে খননকারীরা লাপাত্তা হয়ে যায়। এলাকাবাসীরা অভিযোগ তুলেছেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে একটি পুলিশের ফাঁড়ি রয়েছে। ফাঁড়ির সঙ্গে সমঝোতা করে বিলে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাই উপজেলা সদর হতে ইউএনও যাওয়ার আগে পুকুর খননকারী জেনে যায়। এতে করে অভিযানে গিয়ে কিছুই পাওয়া যায় না। ২৩ ও ২৪ ফের্রুয়ারি রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি কড়া ভাষায় বলে ছিলেন। এলাকায় ভূমিদস্যদের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। এই হুশিয়ারির পর পুকুর খনন করা একেবারে বন্ধ ছিল। হুট করে করে দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খননকারী খনন শুরু করেছেন। শিলমাড়িয়া মালিপাড়া এলাকার সিয়াম হোসেন বলেন,পুকুর খননকারীরা অভিনব কায়দায় করে প্রথমে বছর কোদাল দিয়ে তিন ফসলী জমির উপর দুই/তিন ফিট মাটি কেটে পুকুরের আকৃতি করে রাখছেন। পরের বছরে উপজেলা পরিষদে গিয়ে বলছেন, এই জমিতে কোনো প্রকার আবাদ করা যায় না। পুকুর খননের জন্য আবেদন করছে। আর উপজেলা পরিষদের পক্ষ হতে কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের নেতার মাধ্যমে খননের অনুমতি পেলে নেতার মোটা অংকের টাকা আয় হয়ে যায়। এ কারণে ক্ষতাসীন দলের নেতারা পুরাতন পুকুর সংস্কার করায়ে দেওয়ার দিকে ঝুকেছেন। এ ব্যাপারে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন,এমপি মহোদয়ের নিষেধ করার পর পুকুর খনন করার বন্ধ ছিল। আমরা বুধবার জানতে পারি রাতে শিলমাড়িয়ার একটি বিলে পুকুর খননের কাজ চলছে। তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে গিয়ে পুকুরখননকারীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পুকুর খননের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে