ভালুকা প্রশাসন পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নানা কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন। পহেলা বৈশাখে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা,বিকালে ভালুকা সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠে বৈশাখী মেলা ও পান্তা ইলিশ ভোজনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংঙ্গালীজাতী যুগ যুগ ধরে পহেলা বৈশাখ অথাৎ বাংলা শুভনবর্ষ উদযাপন করে করে আসছে। ভালুকায় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কর্মব্যস্ত সময় কাটছে কুমারপাড়ার মানুষ। কুমাররা মাটি দিয়ে তৈরী করছে হাঁড়ি,দই,পিঠার খোলা, মাছ ধোয়ার পাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের টেপা পুতুল। কারিগররা মাটি প্রস্তুত করে বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরী করে রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। এদিকে কুমার সম্প্রাদায়ের নেতা নিবারন চন্দ্র জানান,আমাদের লোকজন মাটির লৌহার দিয়ে নানা ধরনের জিনিস তৈরী করে। প্রতিটা জিনিস মানুষের কাজে আসে। তারা বছরের শুরুতেই বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য কুমাররা মাটি ও কামাররা লৌহা দিয়ে নানা ধরনের জিনিস তৈরী করেন। পহেলা বৈশাখে মেলায় জিনিস বিক্রি করে আয়-রোজগার করবে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের দাপটে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এ সম্প্রাদায়ের ১৫০টি পরিবার এই পেশার সাথে জড়িত। তাদের এ ব্যবসা আর ধরে রাখতে পারছে না। মাটি দিয়ে তৈরী করার কারিগররা বেকার হয়েছে পড়ছেন। নতুন প্রজন্ম অন্যান্য কাজে জোকে পড়ছে। ভালুকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মন্ডল জানান,ভালুকার চান্দরাটি এলাকায় কুমার সমপ্রদায়ের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ শত পরিবার বাস করে। কামার-কুমার, বেদে, নাপিত এই সমস্থ মানুষদের জন্য আমাদের অধিদপ্তর একটি কর্মসূচি ছিলো। যা ময়মনসিংহ জেলার তিনটি উপজেলার বাস্তবায়িত হয়। আপাতত ভালুকা উপজেলাতে এই কর্মসূচি প্রচলিত নেই। যদি পরবর্তীতে সরকার কোনো নির্দেশনা আমাদেরকে প্রদান করে সেক্ষেত্রে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করতে পারবো। সরকারী ভাবে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী প্রজন্ম হয়তো কেবল ইতিহাসেই খুঁজে পাবে কুমারদের গল্প।