কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় নৃশংস হামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় নৃশংস হামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপন সহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ‘তৌহিদী জনতা’র নাম ব্যবহারকারী নব্য ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দেশে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাদের ধারাবাহিক সহিংসতায় মাজার ও মন্দির ভাঙচুর, বাউল আখড়ায় অগ্নিসংযোগ এবং সাধকদের উপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এমনকি ভিন্ন লিঙ্গীয় পরিচয়ের মানুষ এবং তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাও প্রকাশ্যে চলাচলের সময় হামলার শিকার হচ্ছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারের নিস্পৃহতার কারনেই এসব ঘটনা বারবার ঘটে চলেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস ও মতাদর্শ অনুযায়ী ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। যারা নিজেদের বিশ্বাস অন্যের উপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চায় এবং ভিন্নমতের মানুষের উপর আক্রমণে উসকানি দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনিশ্চিত সময় পার হওয়ার পরও বর্তমান শাসনামলে এ ধরনের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। সম্প্রতি সিলেটেও একটি মাজারের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ অনুপস্থিত বলেই প্রতীয়মান হয়। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য আশা করে, সরকার দ্রুত মব সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করবে এবং সমাজের সকল মত ও পথের মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পীরের আস্তানায় হামলাকারী এবং আব্দুর রহমান শামিমের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা প্রত্যাশা করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল বক্তব্যে নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন,  কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক  মফিজুর রহমান লালটু, প্রগতি লেখক সংঘের কোষাধ্যক্ষ দীনবন্ধু দাশ, গণসংস্কৃতি কেন্দ্রের সমন্বয়ক জাকির হোসেন, সমাজচিন্তা ফোরামের আহবায়ক কামাল হোসেন বাদল, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সমন্বয়ক বিমল কান্তি দাশ, সংগঠক রঘু অভিজিৎ রায়, বাংলাদেশ থিয়েটারের দলপ্রধান খন্দকার শাহ আলম, বাংলাদেশ মাইম এসোসিয়েশনের সভাপতি ম. আবু হারুন টিটো, বিজ্ঞান আন্দোলন  মঞ্চের  সম্পাদক ইনজামাম, সাংজোগাড়ের সাধারণ সম্পাদক অংকন চাকমা, উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান, চারণের সহ-সভাপতি কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ও বিবর্তনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুন নূজহাত মনীষা প্রমুখ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে