বঙ্গোপসাগরে ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
বঙ্গোপসাগরে ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ

মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ বুধবার থেকে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় জলসীমায় সব ধরনের মৎস্য আহরণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। আগামী ১১ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে শরণখোলা উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে।

মৎস্য বিভাগ আরও জানায়, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি চলবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জেলে মাছ শিকারে গেলে তার বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোকে সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ৭১ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের দিনই শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা মৎস্য ঘাটে বেশ কয়েকটি ফিশিং বোট এসে ভিড়েছে। জেলেরা জাল তুলে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিসমিল্লাহ ফিশিং বোর্ডের মাঝি জাকির খান জানান, ইলিশের মূল মৌসুমে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়বেন। সন্তানদের নিয়ে নানা কষ্টে এই দুই মাস পার করতে হবে জেলে পরিবারগুলোকে। সরকার যে সহায়তা দেয় তাতে কিছুই হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফিশিং বোটের মালিক সেলিম বেপারী জানান, দেড় লাখ টাকা ব্যয় করে সাগরে গিয়ে ঝড়ের কারণে সঠিকভাবে মাছ ধরতে না পারায় মাত্র ৮০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে সুন্দরবনের নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় গড়া জাল এবং বেড়িজাল বন্ধ করা জরুরি। এ ধরনের জালে আটকা পড়ে কোটি কোটি মাছের পোনা নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়বেন। তারপরও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জেলেরা মেনে নিয়েছেন। তবে ৫৮ দিনের যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এ কারণে জেলে পরিবারগুলো নিষেধাজ্ঞার সময় ধারদেনা করে কষ্টে সংসার চালাতে বাধ্য হন। তিনি জানান, বাগেরহাট জেলায় প্রায় ৪০ হাজার জেলে রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক সরকারি খাদ্য সহায়তা পাবেন। বাকি জেলেরা পরিবার নিয়ে নানা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হবেন। নিষেধাজ্ঞার সময় খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোস্টগার্ড ও পুলিশের সহায়তায় সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় টহল জোরদার করা হবে। শরণখোলার নিবন্ধিত ৬ হাজার ৮১৪ জন জেলের মধ্যে ৩ হাজার ৭৬ জনকে ৭১ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সাগর ও মোহনায় মাছ যেন নির্বিঘ্নে প্রজনন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় বলে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে