পাইকগাছায় পুলিশ কর্মকর্তার মাকে হত্যা

হত্যাকারী গ্রেফতার না হওয়ায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
হত্যাকারী গ্রেফতার না হওয়ায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

খুলনার পাইকগাছায় পুলিশ কর্মকর্তার মায়ের হত্যার ১ মাস পার হলেও গ্রেফতার হয়নি হত্যাকারী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুতলাখালি এলাকায় ঘটে যাওয়া এসআই চিন্ময় মণ্ডলের মা ভারতী মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হলেও এখনো ধরাছোয়ার বাইরে হত্যাকারীরা। এতে করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ রাতে কে বা কারা ভারতী মণ্ডলকে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত ভারতী মণ্ডল বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) চিন্ময় মণ্ডলের মা। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও বর্তমানে তদন্তে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, এক মাস হয়ে গেল, এখনো খুনিরা ধরা পড়েনি। আমরা কি ন্যায়বিচার পাব না? তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে। এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের মতে, এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পরও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। গত ৬ এপ্রিল ইউনিয়নবাসী স্থানীয় লতা বাজারে ভারতী মন্ডলের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেন। বক্তারা বলেন একজন পুলিশের এসআই এর মায়ের হত্যার বিচার যদি মাসের পর মাস ঝুলে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গত ১৩ এপ্রিল খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে পুলিশ কর্মকর্তার মায়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের বিষয় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ওসি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই খুব শিগগিরই এ ঘটনার অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এ হত্যাকাণ্ড এখন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে