ভালুকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে

পুত্রের গুলিতে পিতা আহতের ঘটনায় পিতা-পুত্র বহিষ্কার

এফএনএস (মোঃ আলমগীর হোসেন; ভালুকা, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
পুত্রের গুলিতে পিতা আহতের ঘটনায় পিতা-পুত্র বহিষ্কার

ভালুকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পুত্রে গুলিতে পিতাসহ তিনজন আহতের ঘটনায় পিতা-পুত্রকে বিএনপি দল থেকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রিয় কমিটি। এঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। দলীয় সুত্রে জানায়,ঝুট ব্যবসা দখল ও দলের মধ্যে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা বিএনপি'র আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জামিরদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সভাপতি মো: খোকা মিয়া এবং তাঁর ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি কর্মী তোফায়েল আহমেদ রানাকে বিএনপি'র প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিএনপি কেন্দ্রিয় কমিটির সিনিয়র যুদ্ধ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে ওই পিতা পুত্রকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না উপজেলা বিএনপির অপর অংশের নেতা আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়েই, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দায়ে, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে ময়মনসিংহ দক্ষিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত)পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। একই সময় একই অপরাধে তার অনুসারী উপজেলা বিএনপি, অংগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৫-২০ জন নেতাকর্মীকেও বহিস্কার করা হয়।

নির্বাচনে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার সমর্থিত নেতা-কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরীতে মোর্শেদ আলমসহ তার গ্রুপের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রনে থাকা ঝুট ব্যবসা সহ সকল ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। গত ১২ এপ্রিল রবিবার উপজেলার নারীশ ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পুত্রের গুলিতে পিতা সহ উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়। এলাকাবাসী আরো জনান,জাতীয় নির্বাচনের পুর্বে নারিশ ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রন করতো পুত্র যুবদলকর্মী তোফায়েল আহাম্মেদ রানা। নির্বাচনে  ফখবউদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বিজয়ী হওয়ার পর নারীশ ফ্যাক্টরীসহ উপজেলার প্রায় বেশীরভাগ ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবসা তাদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে এমপির নের্তাকর্মীরা।  

গত ১৬ মার্চ উপজেলা জামিরদিয়া এলাকার এস কিউ ষ্টেশানের “কালার মাস্টার” নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মোর্শেদ আলমের লোকজন ওয়েষ্টেজের মাল বের করার সময়, খোকা মিয়ার নেতৃত্বে বাধা দেওয়া হয়। এসময় খোকা মিয়া বলতে থাকে এমপির নির্দেশ রয়েছে তার লোক ছাড়া অন্য কেহ মালামাল বের করেতে পারেনা। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলাা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইব্রাহিম খলিলকে বাদী বানিয়ে গত ১৭ ই মার্চ মোর্শেদ আলমসহ বিএনপি ৫০ জন নেতাকর্মীর নামে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সমপ্রতি একই এলাকায় রিদিশা স্পিনিং মিল থেকে মোর্শেদ আলমের লোকজন মাল বের করার সময় উল্লেখিত সংঘবদ্ধ গ্রুপ মিল গেইটে উপস্থিত হেয়ে বাঁধা দেয়। আমতলী এলাকার “কটন গ্রুপে” ঝুটে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিলো হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবু সাঈদ জুয়েলের। সমপ্রতি এমপি ওই মিল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আবু সাঈদ জুয়েলকে বাদ দিয়ে এমপির মনোনীত উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান পিন্টুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সততা এন্টারপ্রাইজকে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করেন। জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ির স্কয়ার ফ্যাশানের ওয়ার্ক অর্ডার ছিল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (বহিস্কৃত)আলহাজ শহিদুল ইসলামের নামে। এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু কারখানা কর্তৃপর্ক্ষকে বার বার সুপারিশ ও বিভিন্ন হুমকি প্রদান করার ফলে, এমপির অনুকুলে ওয়ার্ক অর্ডার দিতে বাধ্য হয়। মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, আমার নিয়ন্ত্রনে থাকা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসা রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের ঝুটের মালামাল বের করতে চাইলে  স্থানীয় এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনী ফ্যক্টরী গেইটে বাঁধা প্রদান করে আসছে।

স্থানীয় এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু জানান, এসব ঘটনার সাথে আমি বা আমার পরিবার কেউ জড়িত নই। কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কারোও ব্যবসায় বাধা ও হুমকি প্রদান করে থাকে, আমার জানা নেই। সুপুষ্ট প্রমান দিতে পারলে আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম গুলির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে খোকা মিয়ার ভাই জজমিয়া,ইলিয়াস ও রবিনকে গ্রেফতার করে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও গত ১৭ মার্চ এসকো ফ্যাক্টরী সামনে মোর্শেদ আলমের ঝুটের মালমাল বের হওয়ার সময় একদল লোক বাধা দেয়। পরে মুর্শেদ আলমকে প্রধান আসামী করে প্রায় ৬০ জনের নামে একটি মামলা রুজু হয়। ১২ এপ্রিলের ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে