ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পুলিশের হস্তক্ষেপে শানে রেসালাত মহাসম্মেলন ও ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছে। বুধবার বিকাল তিন টায় শহরের নলডাঙ্গা রোডে ঝন্টু মিয়ার চাতাল প্রাঙ্গনে আয়োজন করা মাহফিলটি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশের উপস্থিত হয়ে মাহফিল টি বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের ভাষ্য, মাহফিলের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং বিদেশি পাকিস্তানী বক্তার উপস্থিতিতে মাহফিলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও নবী রাসূল নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি সম্বলিত লিফলেট প্রচারে দাঙ্গা হাঙ্গামার আশংকায়তারা মাহফিল টি বন্ধ করতে বলেছেন। মাহফিলের বিশেষ অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য(ঝিনাইদহ ৪) জামায়াতের মাওলানা আবু তালিব এবং স্থানীয়বিএনপি'র শীর্ষ নেতাদের জানানোর পর তারা কথা বললেও সর্বশেষ মাহফিলটি করতে পারেননি। এদিকে প্রশাসনের বাধাতে মাহফিল বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রান মুসল্লী আয়োজক বৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম খোভ বিরাজ করছে। মাহফিল আয়োজকদের মধ্যে মাদ্রাসাতুস সাহাদা ওয়াতারুস আবরার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আকিদুল ইসলাম বলেন, ঝিনাইদহ খতমে নবুযাত সম্মিলিত পরিষদ ও এলাকাবাসীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বুধবার বিকালে শানে রেসেলাত ঐতিহাসিক মহাসম্মেলন ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছিল। কিন্তু মাহফিল শুরুর এক ঘন্টা আগে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশ এসে ওয়াজ মাহফিলটি বন্ধ করে দেন।
গত ৮/১০ দিন আগে কালীগঞ্জ থানাতে গিয়ে ওসি মহোদয়কে উক্ত মাহফিলের আমন্ত্রনের চিঠি দিয়েছিলেন। শেষ সময় ওয়াজ মাহফিলের কথা শুনে তিনি প্রশাংসা করেছিলেন। বারণ করেননি। অনুরূপ ভাবে তিন চার দিন আগে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের অফিসে গিয়ে আমন্ত্রণের চিঠি দিয়েছেনএদিকে মাহফিলের সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের পর হঠাৎ করেই একদিন আগে অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগ তুলে মাহফিল না করার নির্দেশনা দেন ইউএনও। তার এমন নির্দেশনা পেয়ে আয়োজকরা স্থানীয় এমপি এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছে যান। তারাও প্রশাসনকে সুপারিশ করার পরও মাহফিল করতে দেয়নি ।দেশ বিদেশের আলেম-ওলামা, বরেন্য ইসলামী চিন্তাবিদ ব্যক্তিগণ উপস্থিত থাকেন। প্রশাসন কেন বন্ধ করে দিল তা তারা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।
মাহফিল বন্ধের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন বলেন, আয়োজক বৃন্দদের প্রচারকৃত লিফলেটে ইসলাম নিয়ে বেশ কিছু সংঘর্ষিক কথা লেখা আছে। এতে দাঙ্গা হাঙ্গামা আশঙ্কায থাকায ওই মাহফিল বন্ধ করা হয় বলে জানান তিনি। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, যে কোন মাহফিল করতে হলে অনুমতি নিতে হয়।আয়োজকরা কোন অনুমতি না নেওয়াতে মাহফিল বন্ধ করা হয় বলে জানান তিনি।