জরিমানা দাবিতে ক্ষুব্ধ জনতা, অবরুদ্ধ প্রশাসন

রাজিবপুরে তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

এফএনএস (মোঃ আতাউর রহমান; চররাজিবপুর, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
রাজিবপুরে তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার শিবের ডাঙ্গী বাজারে তেল বিক্রিতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং প্রশাসন অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ও প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবের ডাঙ্গী বাজারের ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’-এ দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তেল আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক মোটর সাইকেল ও অটোরিকশা পাম্পের সামনে ভিড় করে এবং দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকে। এদিকে, রাতেই জামালপুর উপজেলার কদমতলা এলাকায় একটি তেলের লড়ি থেকে তেল পাচারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সতর্ক নজরদারি শুরু করে। ভোরের দিকে অটোরিক্সা যোগে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তা আটক করে এবং পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রশাসন পৌঁছালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ঘিরে ফেলে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই থানার পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয় বাসিন্দা হাশেম, মিজানুর ও হামিদুল অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ থেকে তেলের ভাউচার ও মূল্য তালিকা দেখতে চাইলে তা দেখাতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পাম্পের মালিক কদমতলা এলাকা থেকে তেল এনে বেশি দামে বিক্রি করেন।

তারা আরও বলেন, “আমরা হাতে-নাতে ধরেছি। তারপরও অটোরিক্সা, ড্রাম ও সংশ্লিষ্ট যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাম্পে নিয়মিত রাতের বেলায় দ্বিগুণ দামে তেল বিক্রি করা হয়। প্রশাসনকে প্রভাবিত করার কারণেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এই পাম্পের লাইসেন্স বাতিল চাই।” পরবর্তীতে চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম শামিম ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে উদ্ধারকৃত তেল ও আটক যুবকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ এর মালিক ওমর ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে আমরা পেট্রোল আনিনি ডিজেল এনেছি। কিন্তু কিছু মোটর সাইকেল ওয়ালারা সারারাত অপেক্ষা ছিল, জোর করেই বলে যে আমরা প্রেট্রোল এনেছি । এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম শামীম মহোদয় বলেন, জনগণ কর্তৃক আটককৃত পেট্রোলের মালিক পাওয়া যায় নাই। এই তেল বাজেয়াপ্ত করে সরকারি রেইটে বিক্রি করা হয়েছে। শিবের ডাঙ্গী ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজকে পেট্রোলিয়াম আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে