জামালপুরে

ওলি হযরত শাহভ কামাল (রহঃ) এর মাস ব্যাপী ওরস শুরু

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
ওলি হযরত শাহভ কামাল (রহঃ) এর মাস ব্যাপী ওরস শুরু

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ এলাকায় হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) এর মাজার শরীফ। ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের উদ্যেশে হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ)এ অঞ্চলে এসেছিলেন। যুগ-যুগ ধরে প্রতি বছর দুরমুঠ মাজারে বাংলা ১ বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে শেষ দিন পর্যন্ত এক মাস ব্যাপী ওরস শরীফ পালিত হয়ে আসছে। ওরস চলা কালে দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত রেল পথ ও সড়ক পথে তাদেও আগমন ঘটে। সে সময় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা জামালপুর। জানাযায়, হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) দুরমুঠে অবস্থান কালে তৎকালীন ভারতের রাজা মহেন্দ্র নারায়নের পূত্র ভগদেব কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন। রাজা মহেন্দ্র নারায়ন তিনি সে সময় পুত্রের বহু চিকিৎসার পর ব্যর্থ হয়ে প্রখ্যাত ওলী হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ)এর কাছে স্মরনাপন্ন হন। হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) রাজপুত্র ভগদেব এর সুস্থ্যতার জন্য দোয়া করলে তৎক্ষণাৎ সে সুস্থ্য হয়ে উঠেন। হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ)এই করামতি দেখে রাজা মহেন্দ্র নারায়ন তার প্রতিমুগ্ধ হতে তাৎক্ষনিক ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এর রাজার জমিদারির কিয়দাংশ এই প্রখ্যাত অলীর নামে লিখে দিয়ে জায়গীরদারী দান করে। এই প্রখ্যাত অলীর বহু কারামতির ও অলৌকিক ঘটনাবলীর প্রমান প্রবীনদের সান্নিধ্যে জানাযায়। হযরত শাহ্ কামাল (রহ) ছিলেন অপুত্রক।জনশ্রুতি রয়েছে হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) ৪র্থ স্ত্রী বারই রাণীর বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে তার কারামতি অলৌকিক ঘটনা এলাকায় আজো শুনাযায়। তৎকালিন ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী ইউনিয়নের মোজাআটা বারই পাড়া এলাকায় প্রভাবশালী হিন্দু জমিদারের বাড়িতে পূজার উপাসনা চলছিল হঠাৎ হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ)  সেখানে উপস্থিত হন। পূজা অর্চনায় পুজারী দেবতাদের ভোগ দিচ্ছিলেন। সে সময় হযরত শাহ্ কামাল (রহ) পূজারীকে প্রশ্ন করলেন তুমি যে ভোগ দিচ্ছ  কিন্তু দেবতারাতো তোমার ভোগ খাচ্ছে না?। এমন প্রশ্নের জবাবে পুজারীর পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন তা’হলে তুমি খায়িয়ে দেখাও। কথিত আছে সেদিন না’কি তার নির্দ্দেশে দেবতারা ভোগ খেয়েছিল। এ ঘটনার পর সেই বারইপাড়ার প্রভাবশালী হিন্দু জমিদারের একমাত্র মেয়ে বারই রানী তার কারামতি দেখে মুগ্ধ হয়ে পাগল বেশে তার পিছু ছুটেন। তাই তিনি বাধ্য হয়ে পরে তাকে সর্বশেষ স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। মা বারই রানীর মাজার সরুলিয়া গ্রামে অবস্থিত রয়েছে। প্রতিবৎসর ১৫ পৌষ মাসে শুরু হয়ে থাকে। গণ ইতিবৃত্ত গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) কাগজপত্রে পর্যালোচনায় তাঁর তিন কন্যার নাম পরিচয় পাওয়া গেলেও কোন জীবিত ছেলে সন্তানের নাম কিংবা মাজার শরীফ আজো খোঁজে পাওয়া যায়নি। এ সম্পর্কে কারো কাছে তেমন কোন তথ্য নেই,হয়তোবা জন্মের পরই অবিবাহিতবস্থায় ইহকাল ত্যাগ করে থাকতে পারেন। তাই ধারনা করা হয়ে থাকে হয়তো তিনি ছিলেন অপুত্রক।

এলাকার ৮০ বৎসর উর্দ্ধ বয়সীদের মাধ্যমে জানাযায়,বৃটিশ আমলে অথাৎ ১৯০৮ইং সন থেকে ১৯১২ইং সন পর্যন্ত তৎকালিন রংপুর সেটেলম্যান অফিসের অধীনে এ অঞ্চলে ক্যাটিস্টাল সার্ভে (সিএস রেকর্ড) ভূমি জরিপ হয়ে ছিল । সে সময়ের কাগজপত্র পর্যালোচনায় করে দেখা যায় হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) তাঁর কোন পুত্র সন্তানের নামে ক্যাটিস্টাল সার্ভে (সিএস) ভূমি রেকর্ড না হলেও তার তিন কন্যা সন্তানের নামে ভূমি রেকর্ডে অস্তিত্ত পাওয়া যায়। তারা হলেন-নছিমুনন্নেছা, কছিমুন্নেছা ও আক্তারুন্নেছা। পিতা হযরত শাহ সূফি সৈয়্যাদ হজরত শাহ কামাল (রহঃ) যা সিএস কাগজপত্রে রেকর্ডে পরিচয় মেলে। সেদিক থেকে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেয়েদের বার্ধক্যের বয়সে যদি ভূমি জরিপ হয়েও থাকে, তাহলে তাদের বয়সের চেয়ে সর্ব্বোচ্চ একশ বৎসর পার্থক্য অর্থাৎ ১৮০০ শতাব্ধীর গোড়ার দিকে কিংবা মাঝামঝি কোন এক সময় এই অঞ্চলে হযরত শাহ্ সুফি সৈয়্যাদ হজরত শাহ কামাল (রহঃ) মহান এই সাধকের এ অঞ্চলে আগমন ঘটে ছিল বলে ধারনা করা যায়। এই মহান সাধকের মাস ব্যাপী ওরস শরীফ চলাকালে কোন ক্রমেই যেন মাজারের পবিত্রতা নষ্ট না হয় এমনকি  কোন প্রকার যেন বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। সে দিক বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশানসসহ আইন প্রয়োগকারি সংস্থারপ্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসিসহ সূধী মহল। চৈত্র মাসের শেষ দিন রাত ১২টা ১মিনিটে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরস শরীফ এর শুভ সুচনা হয় এরং বৈশাখের শেষ দিবাগত রাত ১২টা ১মিনিটে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত ঘটে থাকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে