ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৪৫ বছর ইমামতি করার পর ফুলে ফুলে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে একটি মসজিদের ইমামকে রাজকীয়ভাবে বিদায় দেওয়া হয়েছে। মুক্তাগাছা পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের আটানী বাজার (ছোট মসজিদ) জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ ক্বারী আব্দুল গনিকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর হাতে ৩লক্ষ টাকার চেক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিদায়কালে মুসুল্লিরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। ৮০ বছর বয়সী ইমাম আব্দুল গনি মুক্তাগাছা পৌর শহরের নতুন বাজারের পয়ারকান্দির বাসিন্দা। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে টানা ৪৫ বছর ধরে আটানী বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বার্ধক্যজনিত কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর সম্মানে এ ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী। মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে শহর প্রদক্ষিণ করে তাঁকে নিয়ে মুক্তাগাছা নতুন বাজার তাঁর ভাড়া বাসা পর্যন্ত র্যালী করা হয়। সেই গাড়ির পেছনে ছিল ঐ এলাকার যুবকদের মোটরসাইকেলের বহর। সামনে ছিলো মুরুব্বিদের বিশাল র্যালী। র্যালীতে নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার স্লোগানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। ইমামকে বিদায় জানাতে আটানী বাজার সড়কে মানুষের উপড়ে পড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে। আটানী বাজার জামে মসজিদের মুসুল্লি আলামিন শেখ আকাশ দিনকালকে বলেন, ইমাম সাহেব ছিলেন অমায়িক একজন মানুষ। তাঁর চলাচলে সারাক্ষণ নবীর সুন্নতি রেওয়াজ প্রকাশ পেতো। ছোটদের সবার আগেই তিনি সালাম দিয়ে ফেলতেন। তাঁর শূণ্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। মসজিদের সভাপতি বলেন, তাকে আমরা অভিভাবক মনে করি। দীর্ঘ প্রায় ৪ যুগ আমাদের ইমাম ছিলেন। তার নির্দেশনা আমাদের জীবনকে সহজ সুন্দর করে তুলতো। এ সময়ে আমরা তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। প্রচেষ্ঠা করে তাকে সম্মানিত করতে এলাকাবাসী কার্পন্য করেনি। তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা এমন সম্মাননা দিয়েছি। কিন্তু কর্মগুন বিবেচনায় তা যৎসামান্য। বিদায়ের পূর্বমুহূর্তে আবেগজড়িত কণ্ঠে ইমাম আব্দুল গনি বলেন, জীবনের অনেকটা সময় এখানেই কেটেছে। বয়স হয়েছে তাই যেতে হচ্ছে। জীবনে কোন ওয়াক্ত নামাজে অনুপস্থিত থাকিনি। শেষ সময়ে আমাকে এমন আয়োজন করে সম্মানিত করেছে। মহান রাব্বুল আলামীন ওদেরকেও আরো বেশি সম্মানিত করুক। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। নবনিযুক্ত ইমাম ক্বারী শেখ ওয়ারেছ আব্দুল্লাহ বলেন, নামাজের পরই বিদ্যুৎ চলে যাবার পর তীব্র গরমে মানুষের উপস্থিতি বলে দেয় তারঁ প্রতি মানুষের কতোটা মোহব্বত রয়েছে। ইমাম মানে নেতা, তাই নেতাকে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হচ্ছে। মুক্তাগাছায় বা ময়মনসিংহ অঞ্চলে এর আগে কখনো এভাবে কোনো ইমামকে বিদায় নিতে দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয় লোকজন। এমন সম্বর্ধনা যেন সব এলাকার সমজিদের ইমামদেরকেও দেওয়া হয় সে কামনা করে এলাকাবাসী। মসজিদের ইমামের প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।