একই পরীক্ষা,একই প্রশ্নপ্রত্র, তবুও ফলাফলে মেধা যাচাই মুল্যায়ন করা হবে দুই পদ্ধতিতে। এটি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। যেখানে কোটা পদ্ধতিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শতকরা ৮০℅এবং বেসরকারি কিন্ডার গার্ডেন একাডেমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ২০।যা একেবারেই বৈষম্যমূলক।সরকার কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুসছে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা। কোটা বাদ দিতে তারা নতুন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ উদ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। শনিবার সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে, সাংবাদিক দেখে এগিয়ে আসেন অভিভাবিকাগন। তারা প্রথমেই বলেন বৈষম্যেমুলক কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে আপনারা সাংবাদিকরা কিছু লেখেন। শারমিন তানিয়া নামে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবিকা জানান, এবারের পরীক্ষায় মেধা যাচাই মুল্যায়নে কোটা পদ্ধতি গ্রহন করা হচ্ছে। সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০℅আর বেসরকারি স্কুলের জন্য ২০℅বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্তটি তারা মেনে নিতে পারছেন না। কোটার কবলে পড়ে কিন্ডার গার্ডেনের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভাল নাম্বার পেলেও বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। উল্টো সরকারী স্কুলের অনেকেই কম নাম্বার পেয়েও বৃত্তি পাবেন। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, একই পরীক্ষা, একই প্রশ্ন হলে বৃত্তি প্রদানে দুই রকম মুল্যায়ন হবে কেন ? রাজিয়া সুলতানা নামে আরেক অভিভাবিকা বলেন,এবারের বৃত্তি পরীক্ষার মুল্যায়ন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শির্ক্ষাথীদের আলাদা চোখে দেখা হচ্ছে। এতে বেসরকারী কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিশু মনে দাগ কাটতে পারে। পরীক্ষার্থী সৃজন ঘোষের বাবা,সাধন কুমার ঘোষ হতাশার সুরে বলেন,আমার সন্তানও একই পাঠ্যবই পড়ে একই মেধার পরিচয় দিচ্ছে, অথচ শুধুমাত্র কিন্ডার গার্টেনে পড়ার কারণে তার সুযোগ কেন সংকুচিত করা হবে। পূর্বে কোটা বা পার্সেন্ট ছিল না। এবার ৮০- ২০ বিভাজন সরাসরি শিশুদের সমান অধিকারের পরিপন্থী ও অবিচার। আরেক পরীক্ষার্থী সৌরভ বিশ্বাসের বাবা, সঞ্চয় বিশ্বাস বলেন, রাষ্ট্র যখন সবার জন্য সমান শিক্ষার কথা বলে,তখন বৃত্তির মতো প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় এমন বৈষম্য মূলক কোটা পদ্ধতি রাখা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। এই বৈষম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের মনে হীনম্মন্যতা তৈরি করছে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার বদলে কেবল বিভাজনকে উৎসাহিত করছে।পরীক্ষা দিতে আসা নলডাঙ্গা ভূষণ শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী রাহা ও আনিসা তাবাসসুমসহ অনেকেরই ভাষ্য, পরীক্ষা দিচ্ছি। যদি ভালো লিখি, তাহলে আমাদেরকে যেন বৃত্তি প্রদানে বঞ্চিত করা না হয়। ঐ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হামিদুর রহমান জানান, এবারের বৃত্তি পরীক্ষায়বৃত্তি মুল্যায়নে সরকারের কিছু নীতিমালার কারণে তারা অভিভাবকদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্ডার গার্ডেনের ক্ষেত্রে ২০℅বৃত্তি প্রদান নিয়মটি তারাও মেনে নিতে পারছেন না। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপিত রফিকুল ইসলাম বলেন, কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীরাও এই দেশেরই সন্তান। তাহলে, মেধার মূল্যায়নণে কে সরকারি স্কুল ৮০% ও বেসরকারি কিন্ডার গার্ডেন ২০% দেওয়া একেবারেই বৈষম্যমূলক আচরণ। তিনি বলেন, এবছর প্রাথমিক বৃত্তি পরিক্ষায় এ উপজেলা মোট ১৪৯৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে তাদের ১৯ টি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বৃত্তি হলো মেধার স্বীকৃতি। এটি কোনো প্রতিষ্টানের সুযোগ নয়। একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অর্জনের প্রতিফলন হওয়া উচিত। যেখানে পরীক্ষার মানদন্ড এক, সেখানে ফলাফল এবং বৃত্তির কোটা ভিন্ন হওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। তাদের দাবী নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে কোটা বরাদ্দ না করে উন্মুক্ত মেধা তালিকার ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করা হোক। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, সরকারী ভাবে এবারে প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল মূল্যায়নে ৮০-২০ পার্সেন্ট কোটা নির্ধারন হয়েছে। এটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের ক্ষেত্রে কেউ কেউ বৈষম্য বললেও এখন কিছুই করার নেই।