মোল্লাহাটে সোহাগ হত্যা, গ্রেফতার ও রিমান্ড, নতুন তথ্যের ইঙ্গিত

এফএনএস (এম এম মফিজুর রহমান; মোল্লাহাট, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
মোল্লাহাটে সোহাগ হত্যা, গ্রেফতার ও রিমান্ড, নতুন তথ্যের ইঙ্গিত

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আলোচিত সোহাগ শেখ হত্যা মামলায় পুলিশের অগ্রগতিতে নতুন মোড় এসেছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। গত ১৪ মার্চ শনিবার রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে মোল্লাহাট বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সোহাগ শেখ। পথে পান বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রেক্ষাপটে আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, এর এক সপ্তাহ আগে ৭ মার্চ রাতে সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নুর ইসলাম (২৭) একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুইটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ইয়াসিন বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল পুলিশ বাপ্পী মল্লিক ওরফে ‘ব্ল্যাক বাপ্পী’ (৩২) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পূর্বে ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও পুলিশ জানায়। শুক্রবার ও শনিবার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পী মল্লিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার ভাষ্যমতে, সোহাগ শেখের বোন হত্যার একটি মামলায় সোহাগ বাদী ছিলেন, যেখানে তার ভগ্নিপতি মাহামুদ শিকদার কারাগারে রয়েছেন। ২০১৬ সালের একটি মামলায় জেলখানায় থাকাকালীন মাহামুদের সঙ্গে বাপ্পীর পরিচয় হয় এবং সেখানেই সোহাগকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে মোট পাঁচজন অংশ নেন। বাপ্পী নিজে একটি মোটরসাইকেলে একা ছিলেন এবং তিনি গুলি করেননি বলে দাবি করেছেন। অন্য দুইটি মোটরসাইকেলে চারজন ছিলেন, যাদের মধ্যে দুজন সোহাগকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। হামলার পর সবাই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য, পূর্বের হামলার সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগ এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সকল আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার রহস্য উদঘাটনে তারা আশাবাদী এবং শিগগিরই পুরো ঘটনার চিত্র স্পষ্ট হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে