জমি অধিগ্রহন জটিলতার কারনে

থমকে যাচ্ছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্প

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
থমকে যাচ্ছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্প

জমি অধিগ্রহন করনের জটিলতায় থমকে গেছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। যে কারনে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী দিন রাত ২৪ ঘন্টা লাখো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রায় দিন এ মহাসড়কে ঘটে থাকে ছোট বড় দূর্ঘটনা। বিশেষ করে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার)ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপথ(সওজ)অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে চলমান এই প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। মেয়াদ আর কয়েক মাস হলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৪ থেকে ৫ শতাংশ।২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও এখনো মূল সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু করা যায়নি।কালীগঞ্জ বাসটামিনাল, ঝিনাইদহ শহরের বাইপাসের চুটলিয়া মোড় এলাকায় ফ্লাইওভারের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ধোপাঘাটা সেতুর জন্য বিজের গার্ডার নির্মাণ এবং কয়েকটি কালভার্টের আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সড়কের মূল অংশে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহগামী সিএনজি চালক আশাদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি প্রকল্পের আওতায় যাওয়ার পর থেকে নিয়মিত মেরামত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ, ধুলাবালি আর ভাঙাচোরা অবস্থা। এতে যান চলাচল হয়ে পড়েছে ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ।প্রতিদিন যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।মেহেদি হাছান নামের এক শিক্ষক বলেন, আমাকে প্রতিদিন কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ যেতে হয়। বাস বা ইজিবাইকে উঠলে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। সারা রাস্তা ভাঙ্গাচোরা। এভাবে আর কতদিন চলতে হবে তার কোন ঠিক নেই। আমাদের ছয় লেন দরকার নেই। দুইলেন ছিলো সেটাই ভালো। আমরা নিয়িমিত চলাচলের জন্য রাস্তা ভালো চাই।এ সড়ক দিয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টা সারাদেশের সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করে থাকে।সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করে মারাত্নক ঝুকি নিয়ে।ইট খোয়া,বালি মাটি, ভাংগা ও বড় বড় গর্তের কারনে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর (উইকেয়ার, ফেজ-১)যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৪৭ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প পাস হয়। চার হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পরে প্রকল্পের ব্যয় ছয় হাজার ৬২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ও মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। 

প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কে একটি ফ্লাইওভার, চারটি সেতু, ৫৫ কালভার্ট, পাঁচটি ভেহিকুলার ওভারপাস, আটটি পেডিস্ট্রিয়ান ওভারপাস ও একটি রেলওয়ে ওভারপাস থাকবে। এ ছাড়া প্রকল্প করিডরকে স্মার্ট হাইওয়েতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম ও অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ডিজাইন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনটি লটে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম লটে ঝিনাইদহ শহরের বাস টার্মিনাল থেকে কালীগঞ্জ মাহাতাব উদ্দিন কলেজ পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৯ কিলোমিটার মহাসড়ক। দ্বিতীয় লটে কালীগঞ্জের মাহাতাব উদ্দিন কলেজ থেকে যশোর সদরের মুরাদগড় পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সদরের মুরাদগড় থেকে যশোর শহরের চাঁচড়া মোড় পর্যন্ত তৃতীয় লটে ১৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার রয়েছে। প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। 

এ ব্যাপারে উইকেয়ার ফেজ-১ প্রকল্পের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলছেন,জমি অধিগ্রন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নির্ধারিত স্থানে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। যেসব স্থানে জমি বুঝে পাওয়া গেছে, সেখানে আংশিক কাজ চলছে। জমি অধিগ্রহন করা হলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে। সবমিলিয়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে ৫ শতাংশ।প্রকল্পটি ২০২০ সালে অনুমোদন হলেও ডিজাইন ও ঠিকাদার নিয়োগ করতে প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে। এটি বাস্তবায়নে মূল চ্যালেঞ্জ ভূমি অধিগ্রহন। যশোর অংশের ৫৩ একর জমি অধিগ্রহনে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। আরও ৭ একর জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম সময় কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া খুবই হতাশাজনক। তিন বছরে মাত্র ২% অগ্রগতি হয়েছে।  উইকেয়ার ফেজ-১’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয় সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা নির্ধারিত জায়গায় কাজ শুরু করতে পারছি না। যেসব স্থানে জমি বুঝে পেয়েছি, সেখানে আংশিক কাজ চলছে। জমি হস্তান্তর পেলে দ্রুতগতিতে বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহন কাজ চলমান রয়েছে। কিছু জটিলতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই জমি অধিগ্রহন সম্পন্ন হবে এবং প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে