স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফারহানা আক্তার (৩৬)। শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তানসহ ফারহানাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। এ সময় তার স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। ন্যায্য ও আইনগত অধিকারের জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। নড়াইলের লোহাগড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা আক্তার তার দুঃখ-বেদনার কথা গণমাধ্যমের সামনে এভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা এলাকার মুকুল মোল্যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে তার স্বামী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সর্বশেষ লোহাগড়ার রামপুর নিরিবিলি পিকনিক স্পটের টিকিট কাউন্টারে ম্যানেজার পদে চাকরিরত ছিলেন। গত বছরের (২০২৫) ২৭ আগস্ট ফারহানার স্বামী মুকুল মোল্যা কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি হৃদরোগে মারা গেছেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর ফারহানা তাদের একমাত্র সন্তান ফারদিন মোল্যাকে (১৪) নিয়ে শ্বশুরবাড়ি লক্ষীপাশাতে বসবাস করছিলেন। তবে, স্বামীর মৃত্যুর প্রায় ২৩দিন পর ওই বছরের (২০২৫) ২০ সেপ্টেম্বর শাশুড়ি লিলিয়া বেগম, ভাসুর বাবুল মোল্যা, ননদ রিনা পারভীন, সুমি বেগম পরস্পর যোগসাজগে ফারহানাকে তার সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ফারহানার স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন। বর্তমানে তার একমাত্র সন্তান লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ফারদিন মোল্যাকে নিয়ে লক্ষীপাশায় ভাড়া বাসায় আছেন ফারহানা আক্তার। মানসিক যন্ত্রণা ও আর্থিক সংকটে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাছে তার। ফারহানা আক্তার আরো বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তারই কর্মস্থল নিরিবিলি পিকনিক স্পটে স্বল্প বেতনে চাকরি করছি। এখান থেকে চাকরিচ্যুত করতেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে। তার বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা আক্তার বলেন, আমি স্বামীর বসতভিটায় থাকতে চাই। এজন্য প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি। এ ব্যাপারে ননদ সুমি বেগমসহ অভিযুক্তরা বলেন, আমরা তো বাড়িতেই থাকি না। ঢাকায় থাকি। বাড়িতে শুধু বৃদ্ধ মা এবং ভাড়াটিয়ারা থাকেন। বরং আমাদের ভাবি ফারহানাকে বাড়ি থেকে না যেতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন।