খুলনা জেলার রেলওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অস্ত্রাগারের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সম্রাট বিশ্বাস আত্মহত্যা ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গতকাল শনিবার এ কমিটি গঠন করা হয়। আজ রোববার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে রেল পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান। এদিকে রেল পুলিশ সদস্য সম্রাট বিশ্বাস আত্মহত্যার রহস্যটি বেশ ঘনীভুত হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর মনমালিন্য থেকে এ ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। খুলনা জেলা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আহমাদ মাইনুল হাসান বলেন, সার্কেল এএসপি শফিকুল ইসলামকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে। অপর দু’জন সদস্য হলেন, রেলওয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ফেরদৌস আলম খান ও গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হাসান। কমিটিকে আগামী চার কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহত সম্রাট বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খুলনা সিআইডি নিয়ে গেছে। আত্মহত্যার মূল তদন্ত সংশ্লিষ্ট থানা করবে। সোনাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা ও এস আই সুমন হাওলাদার জানান, আজ রোববার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আত্মহত্যার আগে পুলিশ সদস্য সম্রাট অনলাইনে কথা বলেছেন। এ সময়ে তিনি কোনো সিম ব্যবহার করেননি। তিনি আরও বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র ছয় মাস। এ সময়ের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর কলহ ছিল। মানষিক চাপে আক্রান্ত ছিল সম্রাট। দীর্ঘ দিনের চাপ সহ্য করতে না পেরে এবং অন্য কোনো উপায় না পেয়ে শুক্রবার ভোর রাতে সে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে তার ধারণা। তাছাড়া বিয়ের পর থেকে তারা একে অপরের অনেক দুরে অবস্থান করত এটাও আত্মহত্যার একটি কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার ভোর ৪ টা ৩০ মিনিটের দিকে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতর অস্ত্রাগারের সামনে দায়িত্বরত ছিল পুলিশ সদস্য সম্রাট বিশ্বাস। রাতে মোবাইলে কথা বলার পর অস্ত্রাগারের ট্রাংক থেকে চাইনীজ রাইফেল বের করে নিজের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করে পুলিশ সদস্য।