সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তালিকায় নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় থাকলেও আলোচনায় থাকা অনেক পরিচিত মুখ শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন প্রার্থী ফরম জমা দেন।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই কয়েকজন তারকা ও পরিচিত রাজনৈতিক মুখ আলোচনায় ছিলেন। কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত ফারজানা সিঁথি, মডেল মেঘনা আলম এবং অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমককে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। তবে চূড়ান্ত তালিকায় তাদের কারও নাম আসেনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেত্রীও মনোনয়ন পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ। এছাড়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও বাদ পড়েছেন প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দীন মওদুদ, সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ, শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী এবং সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করেছেন। সেই প্রক্রিয়া শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে।” দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যারা এবার মনোনয়ন পাননি তাদের ভবিষ্যতে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।
মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকায় সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, নিপুণ রায় চৌধুরী, নিলুফার চৌধুরী মনি, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খানসহ মোট ৩৬ জন স্থান পেয়েছেন। এতে দলটি অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তাকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে থেকে সীমিত আসনে প্রার্থী বাছাই করা কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে এই প্রক্রিয়ায় দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনার চেষ্টা স্পষ্ট। একই সঙ্গে আলোচিত ব্যক্তিদের বাদ পড়া ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।