পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলা জোরদারের নির্দেশ আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলা জোরদারের নির্দেশ আইজিপির

পুলিশ বাহিনীর বিপুল অংশই সৎ ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অল্প কিছু অনিয়ম যেন পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও শক্ত করতে হবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত অপরাধ তদন্ত বিভাগের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালের এই দুই দিনব্যাপী সভায় দেশের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। আইজিপি বলেন, “পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল। তবে অল্প কিছু অনিয়ম পুরো বাহিনীর ইমেজ নষ্ট করতে পারে, এটি ঠেকাতে শৃঙ্খলা জোরদার জরুরি।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন এবং জনগণের প্রশংসাও অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিআইডির ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে আইজিপি বলেন, “সিআইডি দেশের অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থায় একটি অগ্রণী সংস্থা। তাদের পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।” তিনি তদন্তের গতি ও গুণগত মান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে সময়মতো মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনিয়ম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। পেশাদার আচরণই পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে।” একই সঙ্গে মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি। দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখার কথাও বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের জন্য একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “একজন সদস্যের ভুলে পুরো বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

অনুষ্ঠানের শেষে বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয়। সভায় সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে