দৌলতপুর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার উপর সন্ত্রাসী হামলা, গুলিবিদ্ধ ১০

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া):
| আপডেট: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম | প্রকাশ: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
দৌলতপুর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার উপর সন্ত্রাসী হামলা, গুলিবিদ্ধ ১০
কুষ্টিয়ার  দৌলতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম সহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাতেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হোচ্ছেন রবিউল ইসলাম (৩৭), তার পিতা হাফেজ প্রামানিক (৭২), সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৮), কামরুল ইসলাম (৩৮), মুন্নি খাতুন (২৫), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩২) ও তার স্ত্রী মেরিনন খাতুন (২৫)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎে না থাকায়। এ সময় মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। হঠাৎ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রবিউলের চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী-পুরুষসহ তার পরিবারের সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকা ত্যাগ করে।

আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালে উপস্থিত রবিউল ইসলামের মামা লিয়াকত মেম্বার বলেন, আমার ভাগ্নের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। রাতে হঠাৎ করেই ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে হামলা চালায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “রাতে মরিচা ইউনিয়নে কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে রবিউল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, হামলার ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সম্প্রতিকালে দৌলতপুর উপজেলার ফিলীপনগরে কথিত পীর বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর শামীম হত্যা সহ একাধিক ঘটনায়  থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। বৃহৎ এ উপজেলায় সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের ক্যাম্প স্থাপনের দাবি করেছে সচেতন এলাকাবাসী। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে