জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে কৃষিখাতে বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আহবায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু ও সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস এক বিবৃতিতে বলেন- 'ইরান-লেবানন-ফিলিস্তিনের উপর আমেরিকা-ইজরায়েলের বর্বর আগ্রাসনের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি পাম্পগুলোতে তেলের জন্য মানুষের মানুষের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার চিত্র। তেল সংকটের মধ্যেই 'মরার উপর খাঁড়ার ঘা'র মত সরকার তেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেল সংকট এবং দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে, কৃষক মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বোরোধান এখন ফুল ঝরে ধান পুষ্ট হওয়ার সময়। এসময় ক্ষেতে প্রচুর সেচের প্রয়োজন। অথচ সেচ পাম্প চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছে না কৃষক। বিদ্যুৎচালিত পাম্পগুলোও চলছে না লোডশেডিংয়ের কারণে। ঠিকমত সেচ দিতে না পারায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু সেচ নয়, ধান কাটার সময় হারভেস্টার, মাড়াই যন্ত্র, পরিবহন সকল যন্ত্র চালাতে জ্বালানি তেল প্রয়োজন। ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বাড়বে প্রচুর। ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকটে সার কারখানা বন্ধ করেছে যা নতুন করে সারের দাম বাড়াবে। সামগ্রিকভাবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে এসময় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কৃষিখাতে ভর্তুকি দিয়ে আগের মূল্যে এবং জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে হবে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সরকারের উচিত ছিল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় কৃষিতে নির্বিঘ্নে, ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা। জ্বালানি খাত সম্পূর্ণভাবে আমদানি নির্ভর এবং দূর্নীতি-লুটপাটের আখড়া হওয়ায় আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটকালীন সময়েও দেখা যাচ্ছে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তেল মজুত করছে। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। বৃহৎ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার না করে প্রায় পুরোটাই আমদানি করা তেল-গ্যাসের উপর নির্ভর করার নীতি গ্রহণ করেছে। ' নেতৃবৃন্দ আরও বলেন- ' সুনামগঞ্জসহ হাওরের বিভিন্ন এলাকায় আগাম বৃষ্টিতে কৃষকের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা দূর্নীতি লুটপাট হয়। কিন্তু ফসল রক্ষায় স্থায়ী কোন সমাধান করা হয় না। কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি হাওরের নদী, খালের পূর্ণাঙ্গ খনন এবং বাধসমুহে স্লুইসগেট নির্মাণ। তা নাহলে প্রতিবছর একদিকে বাঁধ নির্মাণের নামে জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ হবে, অপরদিকে ফসলও নষ্ট হবে। এবছর আগাম বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকা করে দ্রুত সরকারিভাবে সহযোগিতা করতে হবে। '