পাম্পে তেল শূন্য, কালোবাজারে আগুন

ভেড়ামারার ৫টি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

এফএনএস (শাহ্ জামাল; ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ভেড়ামারার ৫টি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতায় তেলের বাজারে চাপ তৈরি হলেও, বাংলাদেশে জ্বালানি মজুদ পর্যাপ্ত এমনটাই সরকারি দাবি। কিন্তু সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক চোখে পড়ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায়। এখানে তেলের সংকট এখন চরমে, আর সেই সংকটকে ঘিরে উঠেছে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ। ভেড়ামারায় ৫টি ফিলিং স্টেশন গুলো নিয়মিত তেল সরবরাহ করছে না। পাম্পে তেল শূন্য, কালোবাজারে আগুন। কৃত্রিম সংকটে পিষ্ট ভেড়ামারা। ভেড়ামারার এম এ খালেক ফিলিং স্টেশন, মতিয়া ফিলিং স্টেশন, মিজান ফিলিং স্টেশন, সাহারা ফিলিং স্টেশন, দফাদার ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভেড়ামারা শহরটি দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র। তামাক চাষনির্ভর এই অঞ্চলে মোটরসাইকেলই প্রধান বাহন। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই জ্বালানিই এখন দুর্লভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০ টাকার তেল নিতে চৈত্রের দাবদাহে ৫-৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়েই ফিরছেন। ফিলিং স্টেশনগুলো নিয়মিত তেল সরবরাহ করছে না। ২-৩ দিন বন্ধ রেখে হঠাৎ একদিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে। আবার এক পাম্প খোলা থাকলে অন্যগুলো বন্ধ থাকে যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভেড়ামারায় ৫টি ফিলিং স্টেশনগুলো হলো এম এ খালেক ফিলিং স্টেশন, মতিয়া ফিলিং স্টেশন, মিজান ফিলিং স্টেশন, সাহারা ফিলিং স্টেশন, দফাদার ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে এক চাঞ্চল্যকর বাস্তবতা সামনে এসেছে পাম্পে তেল নেই, অথচ খোলা বাজারে লিটার প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় দেদারসে বিক্রি হচ্ছে! ভেড়ামারার রায়টা, জুনিয়াদহ, বাহাদুরপুর ও গোলাপনগর,সাতবাড়িয়া, ধরমপুর  বাজারে গোপনে এই তেল বিক্রির প্রমাণ মিলেছে। প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের সরাসরি অভিযোগ, অধিক মুনাফার লোভে ফিলিং স্টেশন থেকেই তেল সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট। বেনহাম ফার্মাসিউটিক্যালসের এমআর কবির হোসেন বলেন, “তেলের অভাবে নিয়মিত মার্কেটিং করা যাচ্ছে না। অনেক সময় গাড়ি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ইতিমধ্যে তাদের যানবাহন ঘরে তুলে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ভারগো ফার্মাসিটিক্যালস এর ম্যানেজার মনজুর আহম্মেদ ভূট্রো কলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা সেবা ও দৈনন্দিন জীবন সব কিছুতেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান,বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।

সাংবাদিক ও ফারিয়ার নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সহজ শর্তে তেল পাওয়ার জন্য বৈঠক করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে কোন ইতিবাচক দিকনির্দেশনা পাননি। অনেকে মনে করেন

সব ফিলিং স্টেশন একসঙ্গে তেল বিক্রির ব্যবস্থা, কালোবাজারি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। ভেড়ামারার তেল সংকট আর সাধারণ সংকট নয়এটি এখন ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা, নজরদারির ঘাটতি ও সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের নগ্ন চিত্র। সরকারি আশ্বাস যদি বাস্তবতায় প্রতিফলিত না হয়, তবে এই সংকট আরও গভীর হয়ে জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন ভেড়ামারার মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে। ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বলেন, সরকারি ভাবে তেল সরবরাাহ কম থাকায় আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তেল সরবরাাহ বৃদ্ধি হলে এই সমস্য থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে