কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার পাশাপাশি দোকান থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। সোমবার রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ক্রফোর্ডনগর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. আল আমিন মন্ডল (৪৫) তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী মাসুদ (সেনা সদস্য), তার বাবা করিম মন্ডল, মাতা রহিমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো রামদা, হাসুয়া ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় আল আমিন মন্ডলের মাথায় গুরুতর জখম হয়। এ সময় ব্যবসায়িক পার্টনার হাফিজুল ইসলাম (৪৮) ও ভাই মো. মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও লাঠি-সোটা ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা হাফিজুলের ডান হাতের কনুইয়ে আঘাত করলে সেটি মারাত্মকভাবে জখম হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সুযোগে ১নং আসামী মো. মাসুদ ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা নগদ ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ভুক্তভোগী আল আমিন মন্ডল জানান, "দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তারই জেরে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আল আমিন মন্ডল বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।