শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকার বনাঞ্চলে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি হাতিকে বিরক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জ অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্থানীয়দের উদ্দেশ্যেও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, অনেক সময় হাতির ভিডিও ধারণের জন্য কিছু মানুষ হাতিকে উসকানি দেয় বা ঢিল নিক্ষেপ করে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে হাতি উত্তেজিত হয়ে মানুষের জন্য প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। চেক বিতরন অনুষ্ঠানে মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম, সহকারী বন সংরক্ষক শেরপুর সাদেকুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর ইমন, হাতির খবর ও সচেতনতা গ্রুপের মনির হোসেন এবং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম সমশ্চূড়া সভাপতি আরফান আলী প্রমূখ। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এদিন, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় বন্যহাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩টি পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের মোট ৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
বনবিভাগ জানায়, হাতির চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়া ও খাদ্য সংকটের কারণে প্রায়ই লোকালয়ে ঢ়ুকে পড়ে বন্যহাতি, ফলে এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা এই সহায়তাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।