একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, তদন্তে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম | প্রকাশ: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, তদন্তে চাঞ্চল্য

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঁচজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতেই নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে। রাতের কোনো এক সময় ঘরের ভেতরেই হামলা চালিয়ে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়। ফজরের নামাজের পর প্রতিবেশীরা দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে চারটি মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল, যা আগেও উত্তেজনার কারণ হয়েছিল।

তদন্তে জমি বিরোধের ইঙ্গিত, হেফাজতে পাঁচজন
নিয়ামতপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে একাধিক তদন্ত সংস্থা আলামত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি জমি বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

পুলিশি হেফাজতে থাকা পাঁচজন হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন, দুই বোন ডালিমা ও হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা এবং ভগ্নিপতি শহিদুল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নওগাঁর পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে আনা হবে। তিনি বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘদিনের বিরোধের ছায়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার বোন শিরিনার জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই উত্তেজনা ও হুমকির অভিযোগও ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিতে পারে। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এবং নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে