রাজধানী ঢাকায় শব্দদূষণ এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতা। যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন, মডিফায়েড সাইলেন্সার, নির্মাণকাজের জেনারেটর, মাইকের উচ্চ শব্দ-সব মিলিয়ে শহরটি দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং জনসাধারণের অসচেতনতা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, ৬৫ ডেসিবেলের ওপরের শব্দ দূষণ হিসেবে গণ্য হয়। অথচ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শব্দমাত্রা প্রায়ই ৯০ থেকে ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো ‘নিয়ন্ত্রিত শব্দ’ এলাকায়ও উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো হয়। সামপ্রতিক তথ্য বলছে, মাত্র তিন মাসে হাইড্রোলিক হর্ন ও বিকট শব্দে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ হাজার মামলা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। অর্থাৎ আইন আছে, কিছু প্রয়োগও হচ্ছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। শব্দদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। এর ফলে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ, এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের শারীরিক সমস্যা বেড়ে যায়। ঢাকার প্রায় সব মানুষ প্রতিনিয়ত শব্দদূষণের শিকার হচ্ছে-এটি নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আমরা মনে করি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিচ্ছিন্নভাবে মামলা বা জরিমানা যথেষ্ট নয়। ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি যারা এসব হাইড্রোলিক হর্ন বা মডিফায়েড সাইলেন্সার তৈরি ও বাজারজাত করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ নিজেরাই শব্দদূষণ কমাতে উদ্যোগী হয়। ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে হলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণকাজে শব্দ নিয়ন্ত্রণ, মাইক ব্যবহারে সময় ও স্থান নির্ধারণ, এবং জনসচেতনতা-সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।