মোবারকগঞ্জ রেলষ্ট্রেশনে দাঁড়িয়ে ট্রেন নেই কোন ফুট ওভার ব্রিজ। সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রেল লাইনের উপর দিয়ে নিত্য যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য বহুদিন থেকেই ফুট ওভার ব্রিজের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কিন্তু সেটা অদ্যবধি পর্যন্ত হয়নি। স্টেশনে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীবাহি ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন। ফলে যাতায়াতের সমস্যায় পড়তে হয় ট্রেন যাত্রী ও স্থানীয় মানুষকে। লাইনের অন্য পারে যেতে গেলে রেললাইনের উপর দিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না তাঁদের। স্থানীয় মানুষজন একাধিকবার এই স্টেশনে ফুট ওভার ব্রিজ তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ মোবারকগঞ্জ রেলস্ট্রেশনে নেই কোনো ফুট ওভার ব্রিজ। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা। এতে করে প্রায় ছোট বড় দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। চালকরা দাবী করছেন, দলবেঁধে মানুষ রাস্তা পার হন, এতে অনেক সময় সৃষ্টি হয় বড় ধরনের সমস্যা।কিছু পথচারী গাড়ি লক্ষ্য না করে রাস্তা পার হন। এতে আমরা চালকরাও খুব বিব্রদকর পরিস্থিতিতে পড়েন। আবার একটা ট্রেন এ স্ট্রেশনে এসে দাড়ালে অপর প্রান্তে পার হওয়া যায় না। কেউ ট্রেনের নিচ দিয়ে আবার কেউ দাড়িয়ে থাকা ট্রেনের ভিতর দিয়ে পারাপারা হয়। অসংখ্য মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। এ সময় একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। ওভার ব্রিজ থাকলে আমরা এভাবে পার হতাম না। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, অনেক কষ্ট করে বাচ্চা নিয়ে রাস্তা পার হন তিনি। এ নিয়ে সর্বদা আতংক কাজ করে। তিনি বলেন, যদি ফুটওভার ব্রিজ থাকত তাহলে চিন্তা থাকত না। মোবারকগঞ্জ রেলস্ট্রেশন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতি দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী পারাপারের জন্য নেই কোন ফুট ওভার ব্রিজ। ১৯৫১ সাল থেকে এ স্টেশনে ট্রেন চলাচল করে থাকে। যে কারণে ১ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে ২ নম্বর প্লাটফর্মে আসা-যাওয়া করতে যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। প্রায় ১০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত মোবারকগঞ্জ রেল স্টেশনটিতে অদ্যবধি আধুনিকায়নের তেমন কোন ছোয়া লাগেনি। পুরাতন এ রেলওয়ে স্টেশনটিতে রয়েছে দুইটি প্লাটফর্ম তিনটি প্রধান লাইন ও একটি পার্শ্ব লাইন। প্রতিদিন রেল ক্রসিং এর সময় যাত্রীবাহী একটি ট্রেন স্টেশনের ২নং প্লাটফর্মে দাঁড়ায়। এই সময় ২নং প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকার ট্রেনে ওঠানামা করতে যাত্রীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। ১নং প্লাটফর্ম থেকে যাত্রীদের সাথে থাকা ব্যাগ নিয়ে রেললাইন পার হয়ে ট্রেনে ওঠা লাগে, ট্রেন থেকে নামার সময় একই অবস্থায় পড়তে হয়। এ সময় বিশেষ করে নারী-শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা পড়েন চরম বিপাকে। শুধু তাই নয় রেললাইন পার হতে গেলে যাত্রী সাধারণের শতভাগ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্য দিয়েই পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এরকম অসহ্য বিড়ম্বনা সহ্য করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটে চলছে মোবারকগঞ্জ রেল স্টেশন ব্যবহারকারী যাত্রীরা। এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কিংবা মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রী দুর্ভোগের এই ব্যাপারে মোটেও দৃষ্টিগোচর করেন না। কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ আশপাশের জেলার অনেক যাত্রী মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন এর মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এ রেলস্টেশন থেকে সারা দেশের যাত্রিরা যাতায়াত করে থাকে।
মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাজাহান শেখের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্টেশন আধুনিকায়ন কিংবা ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের আলাদা বিভাগ রয়েছে।এ ব্যাপারটি তারাই ভালো বলতে পারবেন।মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে রুপসা, সীমান্ত,কপোতাক্ষ, সাগরদাঁড়ি, সুন্দরবন,চিত্রা, বেনাপোল, মহানন্দা রকেট ও নকশী কাঁথা এক্সপ্রেস নামক যাত্রীবাহী ট্রেনসহ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে। একই সাথে চলছে মালবাহী ট্রেন। এইসব ট্রেনে হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করছেন। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্লাটফর্মে যাওয়া আসা করতে কর্তৃপক্ষ অতিসত্বর মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা যাত্রীসাধারণের।