বাংলাদেশ কংগ্রেসের ঢাকার মেয়র প্রার্থী শামীম আহমদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
বাংলাদেশ কংগ্রেসের ঢাকার মেয়র প্রার্থী শামীম আহমদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৭ আসন থেকে অংশ নেয়া বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী শামীম আহমদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তিনিই হবেন আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী। ব্যানার পোস্টার বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে জনসংযোগ করে ইতোমধ্যেই তিনি নির্বাচনী ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আগামী ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৪র্থ কাউন্সিলে শামীম আহমদের নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবারও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এক মাস আগে দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ইফতার পার্টি অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপস্থিতিতে পার্টির সভাপতি কাজী রেজাউল হোসেন, 'শামীম আহমদ' এর নাম ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সাথে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হিসাবেও তাকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এসময় কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল ইসলাম এবং দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি অঞ্চলটি নাগরিকদের বাসযোগ্য শহরে রূপায়ণ করে তিনি ঢাকা শহর নবরূপে সাজিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জানান, নবরূপে ঢাকা’ এই থিম নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। নবরূপা ঢাকা বলতে মূলত ঢাকার আধুনিকায়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বোঝানো নয়। বরং সিটি করপোরেশনের আওতায় বসবাসরত সকল নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নির্বিঘ্ন জীবনযাপন নিশ্চিত করা অন্যতম লক্ষ। নগরীর সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-খেলার মাঠ সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে তাদের মায়েরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারে এমন পার্ক ও মাঠ সৃজন করা। ঢাকাকে নিয়ে তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: সুবিধা: যানজটমুক্ত সড়ক ব্যবস্থা, হাঁটার পথ (walkable paths) এবং সুলভ গণপরিবহন ব্যবস্থা। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এবং সড়কে জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ ও নিশ্চিত করা। সৌন্দর্যবর্ধন: খেলার মাঠ, উদ্যান, জলাশয় এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, দেয়ালচিত্র, এবং পার্ক বা খেলার মাঠের আধুনিকায়ন। পরিবেশ ও উন্নয়ন: বৃক্ষরোপণ ছাড়াও নগরীর যানজট ও দূষণ কমাতে নানামুখী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। সুপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিনের বর্জ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা এবং তা সঠিকভাবে অপসারণ বা পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ও ময়লা ফেলার জায়গা (Landfill) রাখা।পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট ও পাবলিক স্পেস: যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে, রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক এবং বাজার এলাকা সবসময় আবর্জনামুক্ত রাখা। ড্রেনেজ বা নর্দমাগুলো পরিষ্কার রাখা, শহরে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা। দূষণমুক্ত বাতাস ও পরিবেশ: শিল্পকারখানার ধোঁয়া ও গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রিত রাখা, বায়ুদূষণ রোধে পর্যাপ্ত সবুজায়ন বা গাছপালা লাগানো। সচেতন নাগরিক সমাজ: শহরের বাসিন্দাদের ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধকরণ। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ: মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগিং (ধোঁয়া) ও লার্ভিসাইডিং (ওষুধ ছিটানো) কার্যক্রম। এলাকাভিত্তিক মশার হটস্পট চিহ্নিত করে ড্রেন ও জলাশয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন নিশ্চিত করা। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: শহরের বাসিন্দাদের জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্লাস্টিক ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ: প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনা বা সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা। নিয়মিত পরিষ্কার করার প্রযুক্তি: আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ব্যবহার করে দ্রুত ও দক্ষতার সাথে শহর পরিষ্কার রাখা। মৌলিক চাহিদা পূরণ: শিক্ষা চিকিৎসা সহজলভ্যতার পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা। অর্থনৈতিক সুযোগ: ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ, যা বাসিন্দাদের স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে এমন সিটি গড়তে শামীম আহমদ মেয়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে