ভালুকায় শ্রমিক সংকট, মজুরী বেশী

এফএনএস (মোঃ আলমগীর হোসেন; ভালুকা, ময়মনসিংহ) :
| আপডেট: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম | প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ভালুকায় শ্রমিক সংকট, মজুরী বেশী

ভালুকায় শ্রমিক সংকটের কারনে বেশী মজুরী দিয়ে বোরো ধান কাটাচ্ছে কৃষক। বাজার ভেদে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ শত টাকায়। ধানের দাম কম থাকায় কৃষকের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। 

জানাযায়,বৌর মৌসমে প্রকৃতির বিরুপ আচরণ আর নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত মাঠের সোনালী ধান বেশী টাকায় শ্রমিক দিয়ে কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে বোরো চাষীদের। কালবৈাশেখীর তর্জন গর্জন শিলা বৃষ্টির সম্ভাব্য আশংকায় পাঁকা ধান কখন ক্ষেত থেকে কেটে মাড়াই ও শুকিয়ে গোলায় উঠাবেন তা নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। 


ভালুকা উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বেশীর ভাগ এলাকার উঁচু ও নীচু জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। জাত ভেদে বেশিরভাগ জমিতে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শেরপুর নেত্রকোনা,জামালপুর,হালুয়াঘাট থেকে শ্রমিক আসা শুরু করেছে হয়তো শ্রমিক মজুরী কিছু কমতে পারে। 


গোয়ারী গ্রামের কৃষক জালাল জানান, শ্রমিক সংকটের কারনে তিন বেলা খাবার দিয়ে ৭ শতাংশ জমির ধান ১৫ শত টাকা দিয়ে কাটিয়েছেন। ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরী দিতে হবে। ৭ শতাংশ জমিতে ধান হবে চার মন। প্রতিমন ধান বাজারের বিক্রি হচ্ছে সাতশত টাকা। তার ২১ শতক জমির ধান কাটাতে খরচ হয়েছে ছঁয় হাজার টাকা। তারমধ্যে সেচ,বীজ,চাষ,রোপন,মাড়াই ও শুকানো খরচ রয়েছে। ধানের দাম না বাড়লে কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে দিবে।


পলাশতলী গ্রামের নসু মিয়া জানান বর্তমানে স্থানীয় শ্রমিকরা দিন মজুরী ছেড়ে দিয়ে মিল ফ্যক্টরীতে কাজ নিয়েছে। আবার অনেকে অটো রিক্সা ও সিএজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে ফলে স্থানীয় ভাবে কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলার শ্রমিকদেরকে বেশী মজুরী দিয়ে ক্ষেতের পাঁকা ধান কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আমাদের এলাকায় উচু জমির ধান এক হাজার নামা জমির ধান বারোশত টাকা দিয়ে কাটানো হচ্ছে। প্রতি কাঠায় ৪ থেকে ৫ মণ ধান পাবেন বলে তিনি আশা করছেন । কিন্তু ধানের বাজার একেবারে কমে গেছে। শ্রমিক মজুরীসহ চাষাবাদ খরচ বাদ দিলে কোন লাভ থাকবে না। 


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান,চলতি বোর মৌসুমে ভালুকা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে প্রায় ১৮ হাজার  ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্র অর্জিত হয়েছে। উপজেলার সর্বত্রই বোরো ফলন ভাল হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সুষ্ঠ ভাবেই কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন। ধানের দাম কম পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশার খবর পাওয়া গেছে। ধানের বাজার আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে