ক্ষেতলালে পৃথক স্থানে গৃহবধূ ও এক ট্রলি চালকের ঝুলন্ত মরদেহ

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ক্ষেতলালে পৃথক স্থানে গৃহবধূ ও এক ট্রলি চালকের ঝুলন্ত মরদেহ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পৃথক স্থানে এক গৃহবধূ ও এক ট্রলি চালকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল)সকাল ৯টায় ক্ষেতলাল পৌর এলাকার ভাসিলা মহল্লায় গৃহবধূর শয়নকক্ষ থেকে এবং ভোর রাতে উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে মৃত ব্যক্তির বাড়ির অদূরে বাঁশঝাড় থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মনিকার বাবা কালাই উপজেলার শাইলগুন গ্রামের মোহাম্মদ আলী জানান, আমার মেয়ে সমশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাবস্থায় গত ১ বছর পূর্বে কালাই উপজেলার কুজাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সুজন মণ্ডলের সাথে বিয়ে দিই। এর ৮-১০ মাস পর সেখান থেকে সুজনের ফুফাতো ভাই ভাসিলা গ্রামের আনিছুরের ছেলে সাদিকুল আমাকে না জানিয়ে মেয়েকে নিয়ে এসে বিয়ে করে। পরে দুই পরিবারের সমঝোতায় তারা ঘর-সংসার করছে। গত দুই দিন আগে মেয়ে-জামাই আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। জামাই সাদিকুল মেয়েকে আমার বাড়িতে রেখে তার বাড়িতে আসে। আমি সোমবার সন্ধ্যায় জামাইয়ের বাড়িতে মেয়েকে রেখে যাই। আজ মঙ্গলবার সকালে এক প্রতিবেশী আমাকে ফোনে জানায়, আমার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে।

তার মেয়ের আত্মহত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মেয়ের শাশুড়ি ও জামাই যৌতুক হিসেবে সুজুকি জিক্সার ভার্সন আর ১৫০ মোটরসাইকেল দাবি করে। আমি গরিব মানুষ, একটু সময় নিয়ে দিতেও চেয়েছিলাম। মোটরসাইকেল দিতে না পারায় তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

নিহত মনিকার খালা আলিফা বলেন, নারী পুলিশ সদস্যের সাথে আমি লাশ দেখেছি। মনিকার মাথায় ও ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। পুলিশ বলছে, সুরতহাল তথ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে যৌন ও পায়ুপথে রক্ত দেখা গেছে।

নিহত মনিকার স্বামী সাদিকুল বলেন, মনিকা আমাকে সকালে বাজার থেকে পরোটা এনে দিতে বলে। আমি তাকে পরোটা এনে দিয়ে বাড়ির বাইরে যাই। আমার মা ভাত রান্না করছিল। মনিকা ঘরের ভিতরে বাঁশের বরগার সাথে রশি বেঁধে গলায় ফাঁস দেয়। আমার মা ও আমার সাথে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদ হয়নি।

অপরদিকে, উপজেলার মহব্বতপুর নাগরপাড়া গ্রামের মাসুদ (৩২) নামে এক ট্রলি চালক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ওই গ্রামের মজিবরের ছেলে। জানা গেছে, মাসুদের প্রথম স্ত্রীকে স্থানীয় বাবলু মিয়া প্রবাসে পাঠায়। প্রথম স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাকে তালাক দিয়ে আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাকেও ওই বাবলু প্রবাসে পাঠানোর প্রলোভন দেয়। কিন্তু মাসুদ তার স্ত্রীকে ওই বাবলুর প্রলোভন থেকে সরে আসতে বলেন। তার কথা না শোনায় স্ত্রীর প্রতি অভিমান করে আত্মহত্যা করেন। দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যা করেন। সকালে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোত্তাদুল হোসেন বলেন, একই দিনে উপজেলার পৃথক দুই স্থানে একজন নারী ও একজন পুরুষের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে