চাটমোহরে পুকুর নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ৬

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) : | প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
চাটমোহরে পুকুর নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ৬

পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেলা গ্রামে একটি সরকারি পুকুরের দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে। আহতরা হলেন,মহেলা গ্রামের আঃ রশিদ (৪৫),আঃ ছাত্তার (৬৫),আফজাল হোসেন (৬০),হাসিনুর রহমান হাসু (৪০ মেহেদী হাসান সাগর (২৪) ও মাহফুজুর রহমান (২৫)।

জানা গেছে,মহেলা গ্রামের একটি সরকারি পুকুর তিন বছরের জন্য ইজারা নেয় হাসিনুর রহমান হাসু। ইজারা নেওয়ার পর বড়গুয়াখড়া গ্রামের মাসুম-ফারুক গং চুক্তিনামার মাধ্যমে হাসুর কাছ থেকে অংশীদার হয়। হাসু নিজেই পুকুরে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেন এবং অংশীদারদের টাকা দেওয়ার কথা বলেন। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিএনপি নেতারা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। গত মঙ্গলবার এই বিষয় নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আঃ রহিম কালু,পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এ এম জাকারিয়া ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রবিউল করিম তারেকসহ দুই পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মাসুম-ফারুক গং কে ৭৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তখন উভয় পক্ষ সিদ্ধান্ত মনলেও গতকাল বুধবার সকালে মাসুম-ফারুক গং পুকুরে মাছ ছাড়তে যায়। এসময় হাসু গং বাধা দেয়। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।  হাসিনুর রহমান হাসু অভিযোগ করেন,মাসুম-ফারুক গং পুকুর দখল করে জোরপূর্বক মাছ ছাড়ার চেষ্টা করে। নিষেধ করলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে মারপিট করেছে। বৈঠকে তারা সিদ্ধান্ত মানলেও,পরে পুকুর দখলের অপচেষ্টা করে।  অভিযুক্ত ফারুক বলেন,পুকুরের অর্ধেকের ইজারা মালিকানা আমাদের। আমরা কোন শালিস মানিনা। বুধবার সকালে আমরা পুকুরে মাছ ছাড়তে গেলে হাসু গং আমাদের উপর হামলা করেছে। আমাদের দুইজন আহত হয়েছে।  এবিষয়ে পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক বলেন,আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমি বাড়িতে রয়েছি। অধ্যক্ষ আঃ রহিম কালু বলেন,সংঘর্ষের ঘটনা আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবো। এখন আমি পাবনাতে রয়েছি।  চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান,বিষয়টি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে