বাউফলে কৃষক দল সভাপতির হাতে সাংবাদিক লাঞ্চিত

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম | প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
বাউফলে কৃষক দল সভাপতির হাতে সাংবাদিক লাঞ্চিত

পটুয়াখালীর বাউফল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক ভোরের কাগজের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি প্রবীন সাংবাদিক অতুল চন্দ্র পালকে লাঞ্চিত করেছে বাউফলের শীর্ষ সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত  উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম ওরফে ফয়সাল খান (৪২)।   সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটেছে।  এঘটনায় বাউফলের সুশীল সমাজসহ সকল পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সন্ত্রাসী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন।  এঘটনায় বাউফল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। 

সাংবাদিক অতুল চন্দ্র পাল জানান,  হাসপাতালে হামের টীকার সরেজমিন প্রতিবেদন করা এবং এক নিকট আত্মীয়ের চিকিৎসা দেওয়ানোর জন্য  সোমবার বেলা ১১ টার দিকে স্বস্ত্রীক বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই।   এসময়  ফয়সাল জরুরী বিভাগের সামনে তার পথরোধ করে ফ্লিমিষ্টাইলে জরুরী বিভাগের কক্ষের মধ্যে টেনে নিয়ে  দড়জা বন্ধ করে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরে গলা চেপে ধরে এবং বুকে থাপ্পর ও অন্ডকোষ চেপে ধরে তিন লাখ টাকা দাবি করে।  ঘটনার সময় জরুরী বিভাগে থাকা লোকজন হতভম্ব হয়ে যায় এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফয়সালের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।  প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এরকম লাঞ্চনা করার পর তাকে কোথাও কিছু বললে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।  ঘটনার সময় স্ত্রী ও রোগী আত্মীয়গণ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে অবস্থান করছিলেন বিধায় তারাও কোন কিছু বুঝে উঠতে পারেননি এবং সহায়তা করতে এগিয়ে আসতে পারেননি।  এরপর পেশাগত কাজ বাদ দিয়ে কোনো মতে আত্মীয়কে ডাক্তার দেখিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।


হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে  ঘটনাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকসহ অন্যান্য সহকর্মীদের জানানো হয়। এরপর বিকেল ৩ টায় বাউফল প্রেসক্লাবে জরুরী সভা করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বাউফল থানার ওসির সাথে দেখা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। ওসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।  এদিকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্তৃক  সিনিয়র সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে বাউফলে কর্মরত সকল পর্যায়ের সাংবাদিকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। তারা দ্রুত সন্ত্রাসী ফয়সালকে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন।  বাউফলের সংসদ সদস্য  ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ  ঘটনা জেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে জেলা পুলিশ সুপার ও বাউফল থানার ওসিকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করেন।  বাউফল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কামরজ্জামান বাচ্চু, বাউফল প্রেসক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি জলিলুর রহমান, সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন, বাউফল  রির্পোটার্স ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ বাউফলে কর্মরত সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার নায়ক সন্ত্রাসী ফয়সালকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। অন্যথায় কঠিন কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন। তারা জানান, এই ফয়সাল অনেক সাংবাদিকদের হেনস্থা করেছে। বহু মানুষকে  ভয়ভীতি ও অপমান অপদস্ত করে আসছে। পুলিশকেও হেনস্থা করেছে।  তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জেলও খেটেছে। কিন্তু জামিন নিয়ে এসেই আবার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে। তার ভয়ে বাউফল পৌর শহরের মানুয ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকছে। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির জনৈক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক জানান, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য এই ফয়সালকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে দলের কাজ করার জন্য তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। দলে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার কোনো সুযোগ নাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল সাংবাদিকদের জানান,  জানান, সাংবাদিকে লাঞ্ছনার বিষয়ে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবগত করা হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব  দিয়েই দেখছি। অপরাধীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।