কালবৈশাখী কেড়ে নিল মাথা গোঁজার ঠাঁই, আশ্রয় প্রতিবেশীর বাড়িতে

এফএনএস (এস.এম রফিকুল ইসলাম; দুর্গাপুর, নেত্রকোনা) : | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
কালবৈশাখী কেড়ে নিল মাথা গোঁজার ঠাঁই, আশ্রয় প্রতিবেশীর বাড়িতে

শ্বশুরের দেওয়া মাত্র এক শতাংশ জায়গার ওপর ছিল ছোট্ট একটি ঘর। সেই ঘরেই স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুখ-দুঃখে দিন কাটছিল শিরিনা খাতুনের (৩০)। কিন্তু দুই দিন আগে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তার সেই ঠিকানা। দুই শিশু সন্তান নিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের এই অসহায় নারী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গেলে ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শিরিনা খাতুনকে। চোখে-মুখে তার চিন্তা ও হতাশার ছাপ। শিরিনা খাতুন জানান, স্বামী খোকন মিয়া ঢাকায় রিকশা চালান। পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ও এক বছর বয়সী ছেলে সন্তান নিয়েই এই ঘরটিতে ছিল তার বসবাস। স্বামী যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। ঝড়ের দিন বাতাসের তান্ডবে শুরু হতেই সন্তানদের নিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। কিছুক্ষণ পর দেখতেপান, গাছ পড়ে তার ঘরটি ভেঙে মাটির সাথে মিশেগেছে। নিজ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রাণে বাঁচলেও রক্ষা হয়নি তাদের একমাত্র বসতঘরটি। শিরিনা খাতুন বলেন, ঘর ভেঙে যাওয়ার পর এখন প্রতিবেশীর বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে। এই এক শতাংশ জায়গা আর এই ঘরটাই আমার সবকিছু ছিল। তিনি আরও বলেন, স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। এখন নতুন করে ঘর মেরামত করা আমাদের সামর্থ্য নেই। প্রতিবেশীদের সহায়তায় আপাতত দিন কাটছে শিরিনা ও তার দুই সন্তানের। এলাকাবাসী জানান, সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেতে পারে। প্রতিবেশী মালেকা খাতুন বলেন, ঝড়ের রাতে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ঝড় শুরুর আগে যদি আমি তাদের ডেকে আমার বাড়িতে না নিতাম, তাহলে হয়তো এই ঘরেই তাদের মৃত্যু হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। সরকারি সহায়তা বা সমাজের বিত্তবান কেউ এগিয়ে এলে তার ঘরটি মেরামত করা সম্ভব হবে। এদিকে সম্প্রতি হওয়া ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি শিরিনা খাতুনের বিষয়টি প্রতিবেদকের কাছে জানতে পেরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সব ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিরিনাকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে