শরণখোলায় বোরো ধানের সুপার বাম্পার ফলন

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
শরণখোলায় বোরো ধানের সুপার বাম্পার ফলন

বাগেরহাটের শরণখোলায় আমন মৌসুমের মতো মাঠকে মাঠ জুড়ে বোরো ধানের ব্যাপক চাষ হয়েছে। মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানের ক্ষেত দেখে মন জুড়িয়ে যায়। চাষিরা আগামী সপ্তাহ থেকে ধান কাটা শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছেন। সোনালী ধানের সুপার বাম্পার ফলন দেখে চাষিদের মধ্যে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহযোগিতা, নতুন জাতের ধানের বীজ রোপণ, সেচ ব্যবস্থাপনার উন্নতি, লবণাক্ততা সহনশীল ও স্বল্প জীবনকালীন বিভিন্ন জাতের ধান চাষাবাদ করা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় মাসখানেক পূর্বে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়া পাতা পোড়া রোগ দেখা দিয়েছিল। তাতে ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। শরণখোলা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ জানান, এ বছর উপজেলায় গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এ উপজেলায় সর্বমোট ৪৫ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ধানের মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল হীরা-২, ৬, ৯; উফশী ১০২, ১০৪ ও ১০৮। এছাড়া রাজকুমার, নাফকো, এসিআই ১, ২ এবং এসএল এইড এইচ-সহ বিভিন্ন স্বল্পকালীন জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন চাষিরা। আগাম কিছু চাষী বোরো চাষ করেছিলেন, তারা ইতিমধ্যে ধান কেটেছেন এবং ফলন বাম্পার হয়েছে।

দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, ওই গ্রামের চাষি রুহুল আমিন হাওলাদার ২৬ বিঘা, আবু হানিফ মুন্সি ১০ বিঘা, সামাদ হাওলাদার ৫ বিঘা, ওমর ফারুক ৫ বিঘা ও মোনায়েম ৪ বিঘা জমিসহ এই মাঠজুড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। তারা জানান, তাদের মাঠের মধ্যে থাকা খালটি কৃষি বিভাগের সহায়তায় পুনঃখনন করায় চাষাবাদে পানি সেচের ব্যাপক সুবিধা হয়েছে। যে কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটার মতো পরিপক্ক হয়েছে, ২-৪ দিন পরেই কাটা শুরু হবে। এক মাস পূর্বে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কিছু কিছু জমির ধানক্ষেতের পাতা শুকিয়ে গেলেও ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা আরও জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়েই চাষাবাদ করায় সফল হয়েছেন এবং বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান পাওয়া যাবে। উত্তর কদমতলা গ্রামের সুলতান হাওলাদার, দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের বাদল আকন এবং জিলবুনিয়া গ্রামের আমজাদ শাহ জানান, ফলন ভালোই হয়েছে। তবে পাতা পোড়া রোগের কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক কৃষি বিভাগের পরামর্শ মতে যারা ক্ষেতে ওষুধ দিয়েছেন তাদের ক্ষতি হয়নি, তা না হলে বিঘায় কমপক্ষে ৩৫ মণ ধান পাওয়া যেত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, ৯০০ চাষিকে সরকারি প্রণোদনা এবং ৪০ জন চাষিকে প্রদর্শনী হিসেবে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ প্রদান করায় চাষিরা উৎসাহিত হয়ে বোরো চাষের ওপর ঝুঁকে পড়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে এবং দ্বফসলি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ রোপণ, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষাবাদ, সেচ ব্যবস্থাপনা ও চাষিদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে সুপার বাম্পার ফলন হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে