বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহ স্যাটেলাইট স্টেশনের উদ্যোগে ৬১ জাতের ধান গবেষনা প্রকল্পের মাধ্যমে আশার আলো দেখছেন সদর উপজেলার চকনজু গ্রামের কৃষকরা। গবেষনা প্রকল্পের এই সাফল্েয ইতিমধ্যে সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের ‘চকনজু’ গ্রামটি প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলেও জানান তারা। রোববার (৩ মে) দুপুরে এই প্রকল্পের আওতায় ফসল কর্তন ও মাঠ দিবসের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
এ সময় স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওয়তায় ফসল কর্তনের উদ্বোধন শেষে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও সময়োপযোগী কার্যক্রম স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গবেষণা প্রকল্পের একই মাঠে ৬১টি ধানের জাত নিয়ে স্থাপিত বিশেষ “রাইস গার্ডেন”, প্রায়োগিক গবেষণা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান রোপণ এবং স্থানভিত্তিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত গবেষণা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গ্রামটিকে প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। প্রকল্পের আওতায় গ্রামের ১৩৭ কৃষকের ৪৫ একর জমিতে চলতি বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ করেছে। ফসল কর্তন ও মাঠ দিবসের উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ স্থানীয় মীর্জা পার্কে মাঠ দিবস উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায়ও যোগ দেন।
সভায় কৃষকদের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক বান্ধব। ময়মনসিংহের কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে কৃষিকার্ডের দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আশা করছি দ্রুত কৃষকেদের হাতে কৃষিকার্ড দেওয়া হবে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক আফছানা আনছারী বলেন, ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দূরে হওয়ার কারণে ময়মনসিংহের কৃষকরা নতুন জাত গুলো এতটু দেরিতে পায় কিংবা পায় না। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ময়মনসিংহে আমরা একটা স্যাটেলাইট স্টেশন তৈরি করছি, ইতোমধ্যে অস্থায়ী ভিত্তিতে একটি হয়ে গেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি গ্রামকে পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর করে ফেলার কাজ চলছে। আমরা চকনজু গ্রামকে প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলছি। এই গ্রামের প্রত্যেকটি কৃষককে আমরা আর্থিক সহায়তা, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা দিচ্ছি। যেহেতু শ্রমিক স্বল্পতা রয়েছে সে কারণে এ গ্রামের বেশিরভাগ জমি চাষ করা হয়েছে যন্ত্রপাতির মাধ্যম। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ ধান গবেষণা প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।