যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের আতঙ্কে না থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, এই চুক্তি বাতিল করার বিষয়টি এত সহজ নয়, তবে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ধারা থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতায় এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। “রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছেমতো বাতিল করা যাবে,” বলেন তিনি।
চুক্তির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের প্রভাব কমাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উভয় দেশের স্বার্থ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিই দুই পক্ষের সমন্বয়ে হয়। এতে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়,” যোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি এই চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। এটিকে আমরা ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ বলতে পারি।” তিনি আরও বলেন, অযথা উদ্বেগ বা আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো কারণ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য বাস্তবতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নেই এবং ডাম্পিংয়ের অভিযোগও ভিত্তিহীন। “আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। আর যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, তা কঠোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হয়,” বলেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।