আবারও আইনি লড়াইয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি

খায়রুল হকের জামিন স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
খায়রুল হকের জামিন স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার (১৩ মে) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়। এর ফলে খায়রুল হকের জামিন নিয়ে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন। ওই আদেশের পর তার আইনজীবীরা বলেছিলেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় আপাতত তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে একদিনের ব্যবধানে সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করল।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর এখন বিষয়টি আপিল বিভাগের শুনানির জন্য উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে আরও কয়েকটি মামলায় তার নাম আসে।

খায়রুল হকের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগেও একাধিক মামলা হয়েছে। ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই ধরনের অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় আরও দুটি মামলা হয়। এছাড়া প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনও পৃথক মামলা দায়ের করে।

এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) চার মামলায় এবং মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুদকের মামলায় জামিন পান তিনি। পরে সেই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়।

তবে এরপর নতুন করে যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দুই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর আবারও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন খায়রুল হক। মঙ্গলবার (১২ মে) সেই দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট।

২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে