যমুনা সেতুতে বাড়ছে যান চলাচলের সক্ষমতা, পরিত্যক্ত রেল লেন হবে সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
যমুনা সেতুতে বাড়ছে যান চলাচলের সক্ষমতা, পরিত্যক্ত রেল লেন হবে সড়ক

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো যমুনা বহুমুখী সেতুর ডেক সংস্কার, প্রশস্তকরণ এবং পরিত্যক্ত রেল লেনকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং চীনের যৌথ প্রতিষ্ঠান সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভির মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংস্কার কাজ শেষ হলে সেতুর যান চলাচল আরও গতিশীল হবে এবং উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে স্বস্তি ফিরবে।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি সই হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস এবং চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) যৌথ উদ্যোগের পক্ষে ওয়াং বেনকিয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় যমুনা সেতুর অব্যবহৃত রেল লেনকে সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। এতে সেতুর চলাচলপথ প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিটার বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ডেক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে সেতুর ধারণক্ষমতাও বাড়ানো হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল কাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “যমুনা সেতু জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। রেল সংযোগ পৃথক হওয়ার পর অব্যবহৃত থাকা রেল লেন সংস্কার করা হলে সেতুর যান চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে। এতে যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।”

সেতু বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির সময় সেতু এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। নতুন এই সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সিসিসিসি-সিআরবিসি জেভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সংস্কার কাজ শেষ হলে যমুনা সেতু আগামী দিনগুলোতে আরও টেকসই ও কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে