দূর্ঘটনায় শিশু নিহত, বাইকটি পুঁড়িয়ে ক্ষোভ মিঠালেন স্বজনরা

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ৬ মে, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
দূর্ঘটনায় শিশু নিহত, বাইকটি পুঁড়িয়ে ক্ষোভ মিঠালেন স্বজনরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক দূর্ঘটনায় মারূফের (২৪) মোটরবাইকের চাপায় নির্মম ভাবে নিহত হয় শিশু মারিয়া (০৩)। মারিয়া উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের দিঘীর পাড়ের বারৈইহাটির দেলোয়ার মিয়া কন্যা। আব্দুল মতিনের ছেলে মারূফ মারিয়াদের প্রতিবেশী। এ ঘটনায় সোমবার সালিস সভার রায় অমান্য করে মারূফের বাইকটি পুঁড়িয়ে দিয়ে ক্ষোভ মিঠালেন মারিয়ার স্বজনরা। এতে মনক্ষুন্ন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন। 

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শনিবার বিকাল ৪টার দিকে মোটরবাইক চালিয়ে বাড়ি মহাসড়কের দিকে রওনা দেন। এ সময় বাইকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে তার প্রতিবেশী দেলোয়ার মিয়া শিশু কন্যা মারিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত। আশপাশের লোকজন মারিয়ার লাশ উদ্ধার করেন। উত্তেজিত লোকজন মারূফকে মারধর করেন। বিষয়টি সামাজিক ভাবে নিস্পত্তির প্রস্তাব দিয়ে প্রাথমিক ভাবে তাদেরকে শান্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার দেলোয়ার মিয়ার বাড়িতে তাদের সম্মতিতে এলাকার প্রায় দুই শতাধিক লোকের অংশ গ্রহণে বসে সালিস সভা। সালিস সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মারূফকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ক্ষতিপূরণ বাবদ এই টাকাটা নিহত শিশু মারিয়ার পরিবারকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সালিসের এই রায় অমান্য করেন মারিয়ার পরিবার। তাদের দাবী টাকা নয়, তারা ওই মোটরবাইকটি পুঁড়ে ফেলবেন। এই প্রস্তাবে সম্মত হননি সালিসকারকরা। পরে সালিস সভার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ইউপি সদস্য রেজুয়ান আহমেদ জামাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব আহমেদ রাজ্জি, ইউপি বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আমান মুন্সিসহ অনেকেই ব্যর্থ হয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর ওই বাইকটি আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে দেন নিহত মারিয়ার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। মারিয়ার পিতা দেলোয়ার মিয়া বলেন, পুলিশ মামলা ও ময়না তদন্ত করিনি। ঘটনাটি নিজেদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে। সালিসে ৪ লাখ টাকা রায় হয়েছিল। আমরা টাকা নেইনি। গ্রামবাসী সকলে মিলে মোটরসাইকেলটি পুঁড়িয়ে দিয়েছি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজুয়ান আহমেদ জামাল বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতে গ্রামবাসীকে নিয়ে সালিস সভা করেছি। সকলের মতামত ও সম্মতিতে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছি। দেলোয়াররা ওই রায় মানেননি। পরে বাইকটি পুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এটা অমানবিক কাজ। পুঁড়তে হলে ঘটনার সময়ই পুঁড়তে পারতেন। সালিসের পরে এভাবে পুঁড়িয়ে ফেলা ঠিক হয়নি। শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পক্ষদ্বয় কেউই আমাকে বিষয়টি জানাননি। সোমবার অন্য একজন মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে