মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি না খুললেও দুই দেশের মধ্যে শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে শিগগিরই বাজার খুলে যেতে পারে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে প্রবাসী ভবনে আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া যে শর্তগুলো দিয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি পূরণ না হওয়ায় শ্রমবাজার চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অতীতে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফর করেছে। “মালয়েশিয়া ১০টি শর্ত দিয়েছিল। ওই শর্ত অনুযায়ী এজেন্সির তালিকা করলে মাত্র ছয় থেকে সাতটি প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা অর্জন করে,” বলেন তিনি। পরে সাতটি শর্ত মেনে নিয়ে নতুন করে তালিকা তৈরি করা হয়, যেখানে ৪২৩টি এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “১০টি শর্ত পুরোপুরি মানলে বাংলাদেশের অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি তালিকার বাইরে চলে যায়।” এ কারণে শর্তগুলো সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। ছয়টি মূল শর্ত ও অতিরিক্ত কিছু মানদণ্ড বিবেচনায় এনে চূড়ান্ত তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ভাষায়, “আলোচনা ফলপ্রসূ হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলবে।” তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জানান, দেশে অনুমোদিত প্রায় দুই হাজার এজেন্সির মধ্যে ৪৫০ থেকে ৫০০টির কার্যক্রমের যোগ্যতা নেই। অনেক লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান প্রতারণার সঙ্গেও জড়িত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।