কিশোরগঞ্জে পানি নিমজ্জিত হয়ে ২৫৯ কোটি টাকার বোরো ফসলের ক্ষতি

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) :
| আপডেট: ৬ মে, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম | প্রকাশ: ৬ মে, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
কিশোরগঞ্জে পানি নিমজ্জিত হয়ে ২৫৯ কোটি টাকার বোরো ফসলের ক্ষতি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ ১৩টি উপজেলায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ২৫৯ কোটি টাকা। তবে স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সরকারি এই হিসাবের চেয়ে আরও কয়েকগুণ বেশি।

বুধবার (৬ মে) কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী জেলার অন্তত ৫০ হাজার কৃষক সরাসরি এই ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন  ৪ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই হিসাব করা হয়েছে। এরপরেও প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বোরো ধান নতুন করে পানিতে তলিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবে জেলার মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১১ হাজার ১৭৪ হেক্টর। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৯ হাজার ৭১৫জন কৃষক। ক্ষতিকর পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে জেলার হাওরাঞ্চলে। তারমধ্য ইটনা উপজেলা ১১ হাজার ৫০টি পরিবারের ৩ হাজার ২৬১ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ২০০০টাকা, অষ্টগ্রাম উপজেলা ৯ হাজার ১৫০টি পরিবারের ২ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৬২ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা, তাড়াইল উপজেলা ৪ হাজার ৬৪৪টি পরিবারের ১ হাজার ২২৪ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ২৮ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, নিকলী উপজেলা ৪ হাজার ২৬০টি পরিবারের ৯২৩ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ২১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৩হাজার টাকা, করিমগঞ্জ উপজেলা ৭ হাজার ৩০০টি পরিবারের ৮৩০ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, মিঠামইন উপজেলা ৩ হাজার ৫০০ পরিবারের ৬৯০ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, কটিয়াদী উপজেলা ৩ হাজার ২৫০টি পরিবারের ৫৮৫ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, সদর উপজেলা ১ হাজার ৯২৫টি পরিবারের ২৭৫ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮০০হাজার টাকা, ভৈরব উপজেলা ১ হাজার ২৯০টি পরিবারের ২১১ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৫হাজার টাকা, বাজিতপুর উপজেলা ১ হাজার ২৯৬টি পরিবারের ১৬২ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা, কুলিয়ারচর উপজেলা ৪৫০টি পরিবারের ৬৫ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ১৫ লাখ ৬৫হাজার ১০০ টাকা ও হোসেনপুর উপজেলা ২৬০টি পরিবারের ৪৭ হেক্টর জমি তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ১০ লাখ ৮৭হাজার টাকা। 

আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরসহ উজানের শ্রমজীবী মানুষ।

হাওরে এবং উজানের নিন্মাঞ্চলে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পলি জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অধিকাংশ জলকপাট (স্লুইসগেট) অকেজো থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে পারেনি। এছাড়া জেলার নদী নালা খাল পুনঃ খনন না করায় সহজে পানি নামেনি। এতে বন্যা ছাড়াই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে