আদালতের নিষেধাজ্ঞা আমান্য

কলাতলীতে গভীর রাতে দোকান নির্মাণ করে সকালে উদ্বোধন

এফএনএস (বলরাম দাশ অনুপম; কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
কলাতলীতে গভীর রাতে দোকান নির্মাণ করে সকালে উদ্বোধন

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যা করে কলাতলী মোড়ে অবৈধ দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকে ম্যানেজ করে গভীর রাতে দোকান নির্মাণ করে বিভিন্ন জমকালো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সকালে উদ্বোধন হচ্ছে। অবাক করার বিষয় হচ্ছে রাতের উঁচু উঁচু টিনের বেড়া সকাল হতেই জমকালো দোকান কিংবা গাড়ির কাউন্টারে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে কলাতলীর পুলিশ বক্সের পূর্ব পাশে এবং রাস্তার পশ্চিম পাশে রাতারাতি ১০টির অধিক দোকান নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারি যে প্লটে দোকান নির্মাণ হয়েছে উক্ত প্লটে স্থিতিবস্থা বিদ্যামান রাখতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। 

কিন্তু একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অসাধু গুটিকয়েক কর্মকর্তাদের মোটা অংকে ম্যানেজ করে রাতারাতি টিনের বেড়ার পেছন থেকে দোকান নির্মাণ করছে। পরে রাতেই মালামাল সাজিয়ে বা গাড়ির কাউন্টার সাজিয়ে সকালে ব্যবসা কিংবা অফিস কার্যক্রম শুরু করছে। যা ভয়াবহ ও অবাক করার মতো দখলবাজি। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি সময়ে অবৈধভাবে এই দোকানগুলো তৈরি করে মোটা অংকের বিনিময়ে ভাড়া দেয়া হয়েছে। আর এই দখল কাজের জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। এতে করে একদিকে যেমনি ভাবে কলাতলী এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বেদখল হয়ে যাচ্ছে সরকারী জায়গা। 

পাশাপাশি অবমাননা করা হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা। একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সমুদ্র সৈকতের তীরবর্তী কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবনী পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যেসকল অবৈধ দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল সেগুলো উচ্ছেদ করে সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার কাজ করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। কিন্তু  অন্যদিকে কলাতলীর মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশ বক্সের সাথে লাগোয়া পূর্ব পাশ্বের অবৈধ দোকান নির্মান করার বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড়ে (ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে) বিশাল এলাকাজুড়ে ফুটপাত ঘেষে সরকারি প্লটে গড়ে তোলা হয়েছে ১০টির অধিক অবৈধ স্থাপনা। এরমধ্যে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেয়া হয়েছে গাড়ির কাউন্টার, হোটেল, চায়ের দোকানসহ হরেক রকম ব্যবসার দোকান। কিন্তু অবৈধভাবে নির্মাণের কারনে কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি দোকান কয়েক দফা মালিকানা বদল হয়ে বর্তমানে উপ-ভাড়ায় চলছে। ওই জায়গায় বর্তমানে বিসমিল্লাহ কুলিং কর্ণার ও বৈশাখী রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি খাবার দোকান এবং সোনিয়া এন্টারপ্রাইজ, আইকন পরিবহন, বেঙ্গল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, রংধনু এক্সপ্রেক্স, গ্রীন সেন্টমার্টিন এক্সেপ্রেস, হানিফ ইনপিরিয়াল এক্সপ্রেস, সেন্টমার্টিন সি-ভিউ, এস.আই এন্টারপ্রাইজসহ আরো বেশ কয়েকটি গাড়ির কাউন্টার ভাড়া দেয়া হয়েছে। এদিকে বৈশাখী রেস্তোরাঁর মালিক মো: রাফি জানান, এটি বৈধ নাকি অবৈধ সেটা জানি না। তবে তিনি প্রাসাদ প্যারাডাইসের মালিক ইউসুফ আব্দুল্লাহ থেকে ভাড়া নিয়েছেন। মাসিক কত টাকা ভাড়া বা কি চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছেন তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব সানজিদা বেগম জানান, শহরের ভিতর কলাতলী এলাকা কিংবা অন্য কোন জায়গায় ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হলে সেটা পৌরসভা দেখভাল করেন। পাশাপাশি সরকারি প্লট কিংবা জমিতে অবৈধ কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মোঃ শামীম আল ইমরান এর মোবাইল ফোনে রাত সাড়ে আটটা থেকে কয়েকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ জানান, এই দখলবাজির দৃশটি আমার নজরেও এসেছে।  তবে সরকারি জমির উপর হওয়ার কারনে পৌরসভার কিছুই করার নেই। যদি ফুটপাত দখল করে থাকে তাহলে আজকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারন ফুটপাত দখল বিরোধী অভিযান পৌরসভার চলমান রয়েছে।  কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। যদি কেউ প্রশাসনের মালিকানাধীন জায়গার উপর অবৈধ দোকান বা স্থাপনা নির্মাণ করে থাকেন তাহলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে