নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) নেত্রকোনা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় মদন থানা পুলিশ অভিযুক্তের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগর ওই এলাকার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটিও একই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তাই শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় যেত।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্র বলছে, গত বছরের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি শেষে শিশুটিকে ঝাড়ু দিয়ে মসজিদ পরিষ্কার করতে বলেন শিক্ষক সাগর। পরে মসজিদের বারান্দার একটি কক্ষ পরিষ্কারের কথা বলে শিশুটিকে সেখানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। ভয়ে শিশুটি কাউকে কিছু জানায়নি।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে বাড়ির লোকজন সন্দেহ করেন। ঘটনার সাত মাস পর গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি সব কথা খুলে বলে। এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকে অভিযুক্ত সাগর আত্মগোপনে চলে যান। তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন, যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। গ্রেপ্তার এড়াতে গাজীপুর ও টঙ্গী হয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় আশ্রয় নেন তিনি।
মঙ্গলবার (৫ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪। বুধবার বিকেলে তাকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নূরুল কবির রুবেল জানান, আদালতে পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই রিমান্ড শেষে ঘটনার পুরো রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে আসামি কোনো মোবাইল ফোন রাখতেন না। ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে দীর্ঘ ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে শিশুটির চিকিৎসা করা চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তারকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে র্যাব জানিয়েছে, তাদের সাইবার টিম বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। যাঁরা চিকিৎসককে হুমকি দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিপি অ্যাডভোকেট রুবেল আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক আখতারুজ্জামান জানান, সরকারি জেলা হাসপাতালেও পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।