সৌরবিদ্যুতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, নীতিগত সহায়তাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ: বিদ্যুৎমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
সৌরবিদ্যুতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, নীতিগত সহায়তাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ: বিদ্যুৎমন্ত্রী

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতির গতি এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, সঠিক নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাতে দ্রুত বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দীর্ঘদিন এই খাতে পিছিয়ে ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “সঠিক নীতিগত সহায়তা দিলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করেছে এবং নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসেই নীতিমালা সম্পন্ন করে জুনে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি আদেশ জারির লক্ষ্য রয়েছে।

এই এক্সপোতে বক্তৃতায় মন্ত্রী তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ টেনে বলেন, আশির দশকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক টু ব্যাক এলসির মতো নীতিগত সুবিধা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতেও কার্যকর নীতি সহায়তা দেওয়া গেলে দ্রুত বিস্তার সম্ভব।

তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ করতে ইনভার্টার, ফটোভোল্টাইক প্যানেল ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য একটি সহজ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার ওপর, যাতে দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যার বিদ্যুৎ চাহিদাও পূরণ করা যায়।

ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তারা ছাদে প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন এবং নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকরাও লাভের অংশ পাবেন। এতে একদিকে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে, অন্যদিকে শহরের বিদ্যুৎ চাপও কমবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদসহ অনেকে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবা এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গবেষণা ও প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত না এগোলে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলো, এমনটাই জানিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে