বিয়ের দাবিতে হিন্দু যুবকের বাড়িতে মুসলিম নারীর অবস্থান

এফএনএস (এস.এম রফিকুল ইসলাম; দুর্গাপুর, নেত্রকোনা) : | প্রকাশ: ৮ মে, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
বিয়ের দাবিতে হিন্দু যুবকের বাড়িতে মুসলিম নারীর অবস্থান

প্রায় চার বছর আগে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়। এরপর শুরু হয় প্রেমের সম্পর্ক। পরে দীর্ঘ দেড় বছর বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে সংসার করেন তারা। তবে ধর্মীয় ভিন্নতা ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে একপর্যায়ে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। এবার বিয়ের দাবিতে হিন্দু(ভ্রাম্মন)যুবকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন মুসলিম নারী মিতু আক্তার (৩২)।

ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাঁকৈরগড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাঁকৈরগড়া গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা অশিত চক্রবর্ত্তীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ফরিদপুরের রাজবাড়ী জেলার দুলদী লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা মিতু আক্তার। প্রেমিক অন্তু চক্রবর্ত্তী অশিত চক্রবর্র্ত্তীর ছেলে।

শুক্রবার (৮মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। জানা যায়, ৭মে বৃহস্পতিবার সন্ধা থেকেই ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন মিতু আক্তার। তিনি জানান, ২০২২ সালে টিকটকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে কথাবার্তার একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় অন্তু চক্রবর্ত্তী সাভারের একটি গার্মেন্ট’এ চাকরি করতেন। ২০২৪ সালে মিতু আক্তার সেখানে গেলে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

মিতু আক্তার আরও জানান, বর্তমানে তার একটি সংসার রয়েছে এবং সেখানে ৭ বছরের এক ছেলে ও ৩ বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তবে প্রেমের টানে তিনি অন্তুর কাছে চলে আসেন। তার দাবি, অন্তু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে তার আগের বিয়ের বিষয়টি অন্তুর এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানাজানি হলে তাদের মধ্যে দূরত্ব ও বিরোধ তৈরি হয়।

মিতু আক্তার বলেন, আমি তাকে আগেই বলেছিলাম আমার স্বামী-সন্তান আছে। তখন সে বলেছিল, এসব তার সমস্যা না। আমার ১০টা বা ২০টা সন্তান থাকলেও সে আমাকে নিয়েই থাকবে। সে কখনও আমার ধর্ম নিয়েও আপত্তি করেনি। আমি নামাজ পড়তাম, কোরআন পড়তাম, সেও শুনতো। আমার টিকটক ও ইমু আইডিতেও ‘মিতু আক্তার’ নামই ছিল। এই নাম কি হিন্দুর হতে পারে ? তিনি আরও বলেন, আমি এখন তার বাড়িতে এসেছি। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি মরে যাবো।

এদিকে প্রেমিক অন্তু চক্রবতর্ত্তী দাবি করেন, তিনি জানতেন না মিতু আক্তার মুসলিম ও বিবাহিত। তিনি বলেন, হিন্দু পরিচয়ে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছিল। পরে জানতে পারি সে বিবাহিত এবং তার সন্তানও আছে। এসব জানার পর আমি সম্পর্ক থেকে সরে আসি। এখন সে বাড়িতে এসে বিয়ের দাবি করছে। কিন্তু আমি তাকে বিয়ে করবো না। সে মুসলিম, আমি হিন্দু। আর আগের দুই স্বামী ও সন্তান ছেড়ে আসতে পেরেছে, আমাকেও ছেড়ে যেতে পারবে।

প্রেমিক অন্তু চক্রবর্ত্তীর বাবা অশিত চক্রবর্ত্তী জানান, ছেলে চাকুরী করতে গিয়েছিল সেখানে এসব মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আমি জানতাম না। স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল মিয়া বলেন, ছেলে-মেয়ে দু-জনই অপরাধ করেছে। তবে ছেলেটি মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছে। বিয়ে ছাড়া সংসারও করেছে বলেই মেয়েটি এখানে এসেছে এখন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদুল বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য ভালো নয়। আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই। যেহেতু তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিল, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনগতভাবে এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে