২৪৮ মিলিয়ন বাজেটে আয় ৬৪১ মিলিয়ন ডলার, বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ৯ মে, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
২৪৮ মিলিয়ন বাজেটে আয় ৬৪১ মিলিয়ন ডলার, বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’

মুক্তির এক মাস পরও বিশ্বজুড়ে কমেনি ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ নিয়ে উন্মাদনা। ২৪৮ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই সাই ফাই সিনেমা এখন পর্যন্ত আয় করেছে ৬৪১ মিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের তৃতীয় সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়েছে এটি। শুরুতে খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসায় ধীরে ধীরে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে আসে সিনেমাটি। তাই একে বলা হচ্ছে এ বছরের বড় ‘স্লিপার হিট’।

অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওজের ব্যানারে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ইতোমধ্যে স্টুডিওটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রের রেকর্ডও গড়েছে। ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার পরিচালিত সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন রায়ান গসলিং।

সিনেমার শুরুতেই দেখা যায়, মহাকাশযানে ঘুম ভেঙে জেগে ওঠেন গ্রেস নামের এক ব্যক্তি। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, সাময়িকভাবে স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন। এরপর শুরু হয় নিজের পরিচয়, মিশন এবং মহাকাশযানে আসার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা।

অসরলরৈখিক বর্ণনায় এগিয়ে চলা গল্পে ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে উঠে আসে পৃথিবীর ভয়াবহ বাস্তবতা। সূর্যের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় সংক্রমণ ‘অ্যাস্ট্রোফেজ’-এর কারণে ধীরে ধীরে কমে আসছে সূর্যের শক্তি। পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নাসা শুরু করে ‘হেইল মেরি’ মিশন। সেই মিশনেরই অংশ গ্রেস।

একসময় গল্পে যোগ হয় নতুন মোড়। গ্রেসের পরিচয় হয় ভিনগ্রহের প্রাণী রকির সঙ্গে। তাদের বন্ধুত্ব, যোগাযোগ আর পৃথিবীকে রক্ষার চেষ্টাই হয়ে ওঠে সিনেমার মূল আকর্ষণ।

অ্যান্ডি উইয়ারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি বিজ্ঞান, আবেগ ও হাস্যরসের মিশেলে তৈরি হয়েছে। এর আগে একই লেখকের বই থেকে নির্মিত ‘দ্য মার্শিয়ান’ও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। নির্মাতারা বইয়ের অসরলরৈখিক বর্ণনার ধরনটিও বজায় রেখেছেন, যা গল্পে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

রিভিউ বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ মূলত এক ধরনের ‘ফিল গুড’ মহাকাশ থ্রিলার। বিজ্ঞান এখানে প্রেক্ষাপট হলেও আসল গল্প মানবিকতা, একাকিত্ব ও বন্ধুত্বের। বিশেষ করে রায়ান গসলিংয়ের অভিনয় সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একক দৃশ্যগুলোতে সংযত অভিনয়ের পাশাপাশি রকির সঙ্গে তার দৃশ্যগুলোতে প্রাণবন্ত কমেডিও দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও ইভা চরিত্রে নজর কেড়েছেন সান্ড্রা হুলার। এছাড়া লায়নেল বয়েসের অভিনয়ও গল্পে হালকা ও মানবিক আবহ তৈরি করেছে।

চিত্রগ্রাহক গ্রেগ ফ্রেজার মহাকাশের শূন্যতা ও নিঃসঙ্গতাকে দৃশ্যায়নে ফুটিয়ে তুলেছেন দক্ষতার সঙ্গে। একইভাবে পল ল্যামবার্টের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং ড্যানিয়েল পেম্বারটনের আবহসংগীত সিনেমাটিকে আরও বড় পরিসরের অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

তবে সমালোচনার জায়গাও রয়েছে। ২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটিকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ মনে করেছেন। কোথাও কোথাও ‘ইন্টারস্টেলার’-এর প্রভাবও স্পষ্ট বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। বিশাল ভিজ্যুয়াল আর আবেগ তৈরি করতে গিয়ে কিছু দৃশ্যে অতিরিক্ত নাটকীয়তার অভিযোগও উঠেছে।

তারপরও দর্শকপ্রিয়তা আর বক্স অফিস সাফল্য প্রমাণ করছে, বিজ্ঞানভিত্তিক গল্পকে মানবিক আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে নির্মিত এই সিনেমা বিশ্বব্যাপী দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে