মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। সকালে মোহাম্মদ আব্বাসের বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশকে ৪১৩ রানে থামানোর পর ব্যাট হাতে দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন দুই তরুণ ব্যাটার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফাজাল। দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯ রান। এখনো ২৩৪ রানে পিছিয়ে থাকলেও সফরকারীদের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (৯ মে) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল বড় সংগ্রহ গড়া। প্রথম দিন ৩০১ রানে ৪ উইকেট হারানো দলটি মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও মেহেদী মিরাজকে ঘিরে আরও শক্ত ভিতের আশা দেখছিল। কিন্তু দিনের শুরুতে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দেন।
৩৯তম জন্মদিনে ব্যাট হাতে নামা মুশফিক সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন। তবে ১৭৯ বলে ৭১ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে। লিটন দাসও ভালো শুরুর পর ৩৩ রান করে উইকেট দেন। মিরাজ করেন ১০ রান, তাইজুল ইসলাম ১৭। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৯ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে চারশ পার করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১১৭.১ ওভারে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন আব্বাস। ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই পেসার। আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট।
বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের জবাবে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করে পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে আজান আওয়াইস ও ইমাম উল হক যোগ করেন ১০৬ রান। বাংলাদেশের পেসারদের বিপক্ষে সাবলীল ছিলেন দুই ব্যাটারই। বিশেষ করে অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ২১ বছর বয়সী আজান শুরুতে নাহিদ রানার বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পেলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান।
৬৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করা আজান দিন শেষ করেন অপরাজিত ৮৫ রানে। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার। আরেক তরুণ ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফাজাল খেলছেন ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে। ইমাম উল হক আউট হন ৪৫ রানে, তাকে এলবিডব্লিউ করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এদিন ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। দীর্ঘদিন পর ফেরা তাসকিন আহমেদ খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। নাহিদ রানাও ধারাবাহিক হতে পারেননি। ইবাদত হোসেন কয়েকটি ভালো ডেলিভারি করলেও পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারেননি নিয়মিতভাবে।
দিন শেষে পাকিস্তানের ডাগআউটে ছিল স্বস্তির আবহ। অভিষেক টেস্টেই আজান ও ফাজালের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে দলটিকে। অন্যদিকে প্রথম দিনের উচ্ছ্বাসের পর দ্বিতীয় দিনে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।