চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে পর্যটকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন পর্যটক আহত হয়েছেন। আহতদের সীতাকুণ্ড সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর সৈকত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাহীনতায় অনেক দর্শনার্থী দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে গুলিয়াখালী সমুদ্র উপকূলের পর্যটন স্পটে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সৈকতের একটি দোলনায় বসা নিয়ে কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে স্থানীয় কিছু যুবকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তর্কাতর্কি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে পর্যটকদের ওপর হামলা চালানো হলে চারজন আহত হন। এ সময় সৈকতজুড়ে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ছোটাছুটির সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা অনেক পর্যটক দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের অভিযোগ, গুলিয়াখালী সৈকতে দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী স্থানীয় যুবক পর্যটকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছে। পার্কিং, বসার স্থান, দোলনা কিংবা খাবারের বিলকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটলেও গুলিয়াখালী বিচ এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো স্থায়ী পুলিশ চৌকি কিংবা বিচ ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। ফলে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দেশের অন্যতম নৈসর্গিক পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও গুলিয়াখালী সৈকতে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর সৈকতে অবস্থান না করার নিয়ম থাকলেও অনেক পর্যটক রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। তবে নিরাপত্তা তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সৈকত এলাকায় নেই পর্যাপ্ত পুলিশ টহল, নেই পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র কিংবা জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযুক্তরা ঘটনার পর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই মাহমুদ বলেন, দুপুরের দিকে গুলিয়াখালী সমুদ্র উপকূলে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে পর্যটকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন পর্যটক আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের খুঁজেছি, কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি। আহতরা সীতাকুণ্ড সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গুলিয়াখালী সৈকতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, স্থায়ী পুলিশ টহল, সিসিটিভি নজরদারি এবং পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র চালু না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি সৈকত এলাকায় চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।