ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বিভিন্ন দফতরে জনবল সংকট, অবকাঠামোগত ও আইনশৃঙ্খলা সহ অনেক সমস্যার কথা শুনলাম। আপনাদের বক্তব্যে এ গুলো উঠে এসেছে। আপনারা প্রত্যেকের দফতরের সমস্যা গুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত ভাবে আমার কাছে জমা দেন। আমি মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে সরাসরি কথা বলে সমস্যা গুলো সমাধানের চেষ্টা করি। আপনারা সবাই জানেন আমি একটা স্বপ্ন নিয়ে সরাইলে নির্বাচনটা করেছি। আমার একটাই লক্ষ্য- মানুষ যে ভালোবাসা ও বিশ্বাস রেখে আমাকে ভোট দিয়েছেন। যতদূর সম্ভব আমি যেন আগামী পাঁচ বছর তাদের সেবা করে সেই বিশ্বাসের মর্যাদাটা রক্ষা করতে পারি। কিছু প্রতিকূল অবস্থা তো আমি বুঝতেই পারি। সেটা আপনারাও বুঝতে পারছেন। একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সাথে কাজ করা আপনাদের জন্যও কিছুটা প্রতিকূল। কারণ আমাদের রাজনৈতিক যে সংস্কৃতি তাতে সরকারি দলের একটা চাপ থাকে। সাথে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করাটা খুব সহজ না। এটা কেউ বলবে না। কিন্তু আমি এটা ভালভাবেই বুঝি। আমার দিক থেকে যতটুকু ছাড় দেওয়া সম্ভব আমি আপনাদেরকে তা দিব। যাতে প্রতি মূহুর্তে আপনারা রিলাক্সে কাজ করতে পারেন। দলের একটা চাপ তো থাকেই। কারণ দলের নেতা কর্মীরা মনে করেন তারা সকলেই যারযার এলাকার প্রাইম-মিনিস্টার। এটা যে আমি বুঝি না তা কিন্তু না। ইউনিয়নের একটা কর্মীও মনে করে আমার দল ক্ষমতায় মানে আমিই তো প্রধানমন্ত্রী। এসব কারণে আপনাদেরকে অনেক হেরেজমেন্টে পড়তে হয়। তাই আপনাদের কাজটা যতদূর সম্ভব সহজ করার চেষ্টা আমি করব। গত শনিবার সরাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোল্লেখিত কথা গুলো বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) ব্যারিস্টার রূমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সরাইলটা কিন্তু আমাদের সবার। আমার কাজে যদি কোন ব্যক্তি বা মহল বাঁধার সৃষ্টি করতে চাই। তারা যদি মনে করেন আমাকে কাজ করতে দিবেন না। তবে আপনার এলাকাটা কিন্তু পাঁচ বছরের জন্য পিছিয়ে যাবে। শুধু সরকারি কর্মকর্তা নয় আমি সরাইলবাসীকে বলছি, সকলে যদি একটা সোহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে পারি। সকলে মিলে যদি কাজ করতে পারি তবে আমি বিশ্বাস করি এই উপজেলাকে আশেপাশের উপজেলা থেকে আরো বেশী উন্নয়ন, সমৃদ্ধ ও মডেল উপজেলা করা সম্ভব। যেটা আমার নির্বাচনী অঙ্গিকার। সেটা করা কঠিন হবে না। আমি ইতিমধ্যে সরাইল এবং আশুগঞ্জকে পৌরসভা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আর একটা মিটিং হলেই আশুগঞ্জ উপজেলা পৌরসভা হয়ে যাবে। কারণ ইতিমধ্যে রিকের অনুমোদন হয়ে গেছে। মন্ত্রী মহোদয়ও কথা দিয়েছেন আর ২/১ টা মিটিং এর পরই আশুগঞ্জকে পৌরসভা করে ফেলবেন। আর ২/১ বছর সময় দেন। ইনশাল্লাহ সরাইলটাকেও আমি পৌরসভা করে ফেলব। আমি আশাবাদী এলাকার উন্নয়নে আমি দল মত সকলের সহযোগিতা পাব। আজকে আপনাদের বক্তব্যে যে আন্তরিকতার পরিচয় পেয়েছি। তাতে মনে হয়েছে আপনাদেরকে নিয়ে আমি কাজ করতে পারব। আপনাদের কাজ ও সহযোগিতায় আমি সেন্ট্রালকে বুঝিয়ে কাজ গুলো তুলে আনতে পারব। নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় বক্তব্য রাখেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নিজাম উদ্দিন, সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদর উদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিফাত বিন রহমান, সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রূপক মিয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাত সুলতানা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রাজিয়া বেগম, ভ্যাটিরিনারি সার্জন শ্যামল কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাকবির হোসেন, প্রভাষক ও গণমাধ্যম কর্মী মোহাম্মদ মাহবুব খান, দৈনিক ইত্তেফাকের সরাইল সংবাদদাতা জুলকার নাঈন, একাডেমিক সুপারভাইজার ইতি বেগম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ মামুন প্রমূখ।