ঝিনাইদহে পেঁয়াজ চাষে অধিক ফলন, দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ঝিনাইদহে পেঁয়াজ চাষে অধিক ফলন, দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ

ঝিনাইদহ জেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠ থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন শেষ করেছেন চাষিরা। উৎপাদন ভালো হওয়ায় তাদের মুখে হাসি থাকলেও বাজারে দামের ব্যাপক পতনে সেই আনন্দ অনেকটাই।অনেক কৃষক বলছেন তাদের এবার পিয়াজ চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার বিঘা প্রতি ২০০ মনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পেঁয়াজের আকার অনেক বড় হয়েছে অনেক কৃষকের ৯/১০ পেঁয়াজেই এক কেজি ওজন হচ্ছে। গত দুই বছর পেঁয়াজ চাষে ভালো লাভ হওয়ায় এবার চাষের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এমনকি অনেক চাকরিজীবিরা অধিক লাভের আশায় তাদের নিজ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কিন্তু লাভের চেয়ে লোকসানের বোঝা বেশি হয়েছে।দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী ঝিনাইদহ জেলা হিসেবে পরিচিত রয়েছে, বিশেষ করে শৈলকুপা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ চাষ করে থাকে বানিজ্যিক ভাবে। বর্তমানে শৈলকুপা উপজেলা হাট, নাঙ্গলবাধ হাট, শেখপাড়া হাট, গাড়াগঞ্জ হাট, মদনডাঙ্গা হাট, ভাটই হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রচুর পেঁয়াজ উঠছে। হাটে পেঁয়াজ বোঝাই ভ্যানের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।কিন্তু সরবরাহ বেশি হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। নিম্নমানের া পেঁয়াজ প্রতি মণ ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা মণ। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়িরা এসব পেঁয়াজ কিনে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়িরা এসব পেয়াজ কিনে তারা অনেকেই বেশি দামে বিক্রি করবেন বলে গুদামে মজুত করে রাখছেন।বিভিন্ন পেয়াজ চাষিরা বলছেন গত বছর এই সময়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পরে দাম বেড়ে অক্টোবর মাসে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকায় পৌঁছায়। সে সময় যারা পেঁয়াজ মজুত করতে পেরেছিলেন, যে কারনে তারা অধিক লাভবান হন।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর বলছেন, এ বছর ঝিনাইদহ জেলায় ১৪ হাজার ৪৫৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পেয়াজ চাষিরা ফলন ভালো পেয়েছে। গত বছরের লাভজনক দামের প্রভাবে চাষিরা এ বছর পেয়াজের আবাদ বেশি রোপন করেছিল।

কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ১০ শতক জমিতে পেয়াজের চাষ করেছিল। কিন্তু সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা লোকসান খেয়েছে,মনোহরপুর গ্রামের চাষি মনিরুজ্জামান তিনি ১৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন প্রতি বিঘায় ২০০ মনের বেশি ফলন পেয়েছেন। তবে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এখন হতাশা হয়ে পড়েছেন। ধলহরাচন্দ্র গ্রামের চাষি শরিফুল ইসলাম তিনি ৬ বিঘা জমিতে চাষ করে প্রতি বিঘায় ১৮০ মনের বেশি উৎপাদন পেয়েছেন। তিনি প্রতি মণ ১০০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সরকার থেকে এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হলেও তিনি তা পাননি বলে জানান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, এবছর ঝিনাইদহ জেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। চাষিদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।রেকর্ড পরিমান ফলনের পরও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে