সাতক্ষীরায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের হাতছানি

আমের বাম্পার ফলন, গাছে গাছে চলছে আম পাড়ার উৎসব

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) :
| আপডেট: ১০ মে, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম | প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
আমের বাম্পার ফলন, গাছে গাছে চলছে আম পাড়ার উৎসব

সাতক্ষীরার পথে প্রান্তরে এখন পাকা আমের ম ম গন্ধ। কেউ মই দিয়ে গাছ থেকে আম পাড়ছেন, কেউবা ক্যারেটে সাজাতে ব্যস্ত। এ বছর জেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক। অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে জেলাজুড়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৫ মে থেকে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাঈদ সানা জানান, সারা বছর তাঁরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন। তিনি বলেন, “এবারের আবহাওয়া আমের জন্য আশীর্বাদ ছিল। ঝড়ের প্রকোপ কম থাকায় গুটি ঝরে পড়েনি। এখন গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ আর গোলাপখাস পাড়ছি। এরপর আসবে হিমসাগর আর ল্যাংড়া।” বাগানগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিকদের হাঁকডাক আর আমবোঝাই ট্রাকের আনাগোনায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত চাষিরা। বাগান পরিচর্যাকারী নূর মোহাম্মদ বলেন, “সার, কীটনাশক আর শ্রমিকের মজুরি যে হারে বেড়েছে, তাতে খরচ তোলা বড় চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক বছরে ওষুধের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। যদি হিমসাগর আমের বাজারদর মণে ২ হাজার টাকার নিচে নেমে যায়, তবে অনেক চাষিকে লোকসান গুনতে হতে পারে।” তাঁরা সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং এবং কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরার আম দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় অন্তত ১৫-২০ দিন আগে পাকে। ভৌগোলিক অবস্থান ও মাটির গুণের কারণে এখানকার আম স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। তালার রবিউল ইসলাম জানান, ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ীসহ চট্টগ্রাম ও সিলেটের বড় বড় পাইকাররা ইতিমধ্যে বাগানে আসতে শুরু করেছেন। অনেকে আগাম বাগান কিনে নিয়েছেন। 

সাতক্ষীরার বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। এ বছরও কৃষি বিভাগ উত্তম কৃষি পদ্ধতি (জিএপি) অনুসরণ করে আম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছে। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাতক্ষীরার আম এখন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান এবং বিদেশের বাজারেও আম পাঠানো নিশ্চিত হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূল থাকলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা মৌসুম।” ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন থাকলে এই ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য সাতক্ষীরার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতিশীলতা নিয়ে আসবে।